![]()
“আমি এস এম সম্রাট, চেয়ারম্যান, বীর চট্টলা টিভি। আজ আমি কোনো পত্রিকা ফলো করবো না, আমি সরকারি দলিল থেকে কথা বলবো। অনেকে বলে দেশে ৪২ লাখ মামলা, এটা ভুল! আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত হিসাব দিয়েছেন – দেশে মোট বিচারাধীন মামলা ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬ টি।
আর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী ৪ মে ২০২৬ তারিখে বাসসকে বলেছেন – মামলার সংখ্যা এখন ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৩১ টি।এর মধ্যে হাইকোর্টে ৫ লাখ ২২ হাজার, আপিল বিভাগে ৩৮ হাজার, আর বাকি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার মামলা পড়ে আছে আপনার আমার জেলা আদালতে। বীর চট্টলা টিভির এক্সক্লুসিভ তদন্তে আমরা দেখেছি – এই ৪০ লাখ মামলার কোনো বিভাগ ওয়ারি হিসাব সরকার প্রকাশ করে না। কেন করে না? কারণ করলে বোঝা যাবে কোন বিভাগে বিচারক নাই।
যেমন খুলনা CMM কোর্টে ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা, আছে ৩ জন। ৩ জন বিচারকের ঘাড়ে ১৯,০৪৬ টি মামলা। প্রতি বিচারকের ঘাড়ে ৬ হাজারের বেশি মামলা। চট্টগ্রামে? চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ১০,৪৫৯ টি মামলায় ২,৬৬১ কোটি টাকা আটকে আছে, সরকার টাকা তুলতে পারছে না।
এই অবস্থায় ৭০০ পুলিশের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট কেন?
বিবিসি বাংলার রিপোর্টে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান ইকবাল চৌধুরী বলেছেন – একজন পুলিশ চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় যে মামলায় সাক্ষী ছিলেন, বদলি হয়ে রংপুরে গেলেও তাকে চট্টগ্রামে আসতে হয়, আজকে ”সমন” আছে, কালকে সাক্ষ্য – পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
আর আমরা বীর চট্টলা টিভি তদন্তে পেয়েছি – সবচেয়ে কষ্টের জায়গা – খুলনা থেকে পুলিশ সাক্ষী দিতে চট্টগ্রাম আসে, এসে দেখে কোর্ট বসেনি, বিচারক ছুটিতে। ফৌজদারি কার্যবিধি ৪৮৫(ক) ধারায় সাক্ষী না আসলে শাস্তি আছে, কিন্তু সাক্ষী এসে বিচারক না থাকলে তার ক্ষতিপূরণের কোনো আইন নাই। এই জন্যই আমি বলছি – দোষ আওয়ামীলীগের না, বিএনপিরও না, দোষ সিস্টেমের। গত ৩০ বছরে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, পুলিশকে দিয়ে রাজনৈতিক মামলা করিয়েছে, আর সেই মামলার জট এখন ৪৭ লাখ।
বীর চট্টলা টিভির ৩ দফা –
১. সরকারকে বিভাগ ওয়ারি মামলার হিসাব প্রকাশ করতে হবে। ঢাকায় কত, চট্টগ্রামে কত, খুলনায় কত – এই হিসাব না দিলে বোঝা যাবে না কোথায় বিচারক লাগবে। আইনমন্ত্রী বলেছেন ৮৭১ টি আদালত ও ২৩২ জন বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে – কিন্তু কোথায়? তার তালিকা চাই।
২. SMS ও ভয়েস কলে সমন – ২০২৬ সালে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিলে SMS ও ভয়েস কলে সমন জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে – এটা এখনই চালু করতে হবে। কাগজের সমন বাদ দিতে হবে।
৩. ভার্চুয়াল সাক্ষ্য – খুলনার পুলিশ খুলনায় বসে চট্টগ্রাম আদালতে সাক্ষ্য দেবে। ২০২০ সালের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইনে অনলাইনে সাক্ষ্য নেওয়ার বিধান আছে – এটা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়, পুলিশকে প্রযুক্তি দিন। পুলিশ বাঁচলে বিচার বাঁচবে।