ছেলের লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না’—ট্রাইব্যুনালে শহীদ ইমনের মায়ের হৃদয়বিদারক জবানবন্দি।

ঢাকা: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১৪ বছর বয়সী রিকশাচালক ইমনের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ অঝোরে কাঁদলেন তার মা কুলসুম বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, ছেলের লাশ বাসায় আনার পর আওয়ামী লীগের এক ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘ছেলের লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না; কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেব।’

বুধবার জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন কুলসুম বেগম।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তার ছেলে ইমনের বয়স ছিল ১৪ বছর। সে রিকশা চালাত। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনে যাওয়ার সময় তিনি ছেলেকে বাধা দেন। তখন শহীদ ইয়ামিন হত্যার একটি ভিডিও দেখিয়ে ইমন বলেছিল, ‘দেখছো আমার বয়সী ছেলেদের কীভাবে মেরে ফেলছে; আমি কেন আন্দোলনে যাব না।’

পরদিন ২০ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে বন্ধু নাইম ও শাহীনকে সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইমন। সাড়ে ৪টার দিকে শাহীন বাসায় এসে জানান, ইমন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। মা, বাবা ও বড় ভাই রাজীব এম জেড হাসপাতালের সামনে তেঁতুলতলা মোড়ে গিয়ে ইমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার জ্ঞান ছিল না। পরে তিন ব্যক্তি রিকশায় করে তাকে বাসার সামনে নিয়ে আসেন।

কুলসুম বেগম বলেন, ছেলের মাথার পেছনে গুলির ক্ষত, বাম গালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং বুকের এক পাশে গুলির চিহ্ন দেখতে পান তিনি। পরে ছেলের গোসল ও জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে তিন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাশ নিয়ে যেতে বাধা দেয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে ইমনের দাফন সম্পন্ন হয়।

জবানবন্দির একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে কুলসুম বেগম বলেন, ‘১৯ জুলাই কারফিউ না দিলে আমার ছেলে বেঁচে থাকত। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’

তিনি তার ছেলের হত্যার জন্য শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে দায়ী করেন।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram