![]()
“বিশ্ব ইতিহাসে পত্রিকা বন্ধ নতুন নয়। ১৭৩৫ সালে আমেরিকায় জন পিটার জেঙ্গার-কে জেলে নেওয়া হয়েছিল সত্য লেখার জন্য। সেখান থেকেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার হাজারো পত্রিকা বন্ধ করেছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে – যে শাসক পত্রিকা বন্ধ করে, সেই শাসকই একদিন ইতিহাস থেকে মুছে যায়, পত্রিকা থেকে যায়। বাংলাদেশে সেই ইতিহাসের নাম – আমার দেশ পত্রিকা।
“আমার দেশ-এর পুরো বায়োডাটা শুনুন – জন্ম: ২০০৪ সাল। প্রতিষ্ঠাতা – এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু। পরে মালিকানা ও সম্পাদনার দায়িত্ব নেন সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান। উত্থান: ২০০৮ থেকে ২০১৩। এই ৫ বছর আমার দেশ ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সাহসী পত্রিকা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, স্কাইপ কেলেঙ্কারি, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল – সব খবর তারা বুক চিতিয়ে ছেপেছে। সার্কুলেশন ২ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
প্রথম মৃত্যু: ১১ জুন ২০১০। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার, পত্রিকা বন্ধ।
দ্বিতীয় মৃত্যু: ১১ এপ্রিল ২০১৩। আমার দেশ প্রেসে পুলিশের তালা। একটানা ১১ বছর ৮ মাস বন্ধ! বিশ্ব ইতিহাসে কোনো দৈনিক পত্রিকা এতদিন বন্ধ থাকার পর ফিরে আসেনি।
পুনর্জন্ম: ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের পর, নতুন বাংলাদেশে আবার হকারের হাতে আমার দেশ। এটাই প্রমাণ করে – আমার দেশ একটা পত্রিকা না, একটা ব্র্যান্ড – বাংলাদেশের জন্য। “এবার আইনে আসি। আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, আন্তর্জাতিক আইন দিয়ে বলছি –
১. বাংলাদেশ সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। আমার দেশ বন্ধ করা মানে সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন।
২. জাতিসংঘ ঘোষণা, UDHR অনুচ্ছেদ ১৯: প্রত্যেকের তথ্য জানার ও প্রকাশের অধিকার আছে।
৩. বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স: যেখানে পত্রিকা বন্ধ হয়, সেখানে গণতন্ত্র মরে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ – আমার দেশ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ প্রেস ফ্রিডমে ১৪০-এর নিচে নেমে গিয়েছিল। আর মাহমুদ রাকিব আজ ১ নভেম্বর যে কথাটা বলেছেন – ‘পত্রিকা ছিঁড়ে প্রতিবাদ করা যায়, কিন্তু টিভি কি লাথি দিয়ে ভাঙা যায়?’ – এটাই আইনের সবচেয়ে বড় ব্যাখ্যা। পত্রিকা আপনাকে প্রতিবাদের অধিকার দেয়, টিভি দেয় না। তাই পত্রিকা বেশি গণতান্ত্রিক।”
“তাই আজ আমি বলি – আপনি আমার দেশকে ঘৃণা করতে পারেন, ভালোবাসতে পারেন, ছিঁড়ে ফেলতে পারেন – কিন্তু অস্বীকার করতে পারবেন না। কারণ ১১ বছর বন্ধ থাকার পরও যে পত্রিকা ফিরে আসে, সে পত্রিকা কাগজ দিয়ে তৈরি না, সে পত্রিকা মানুষের রক্ত দিয়ে তৈরি। আমার দেশ ছিল, আছে, থাকবে।
বীর চট্টলা টিভি, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক।”