![]()
“চট্টগ্রামের ইতিহাসে এই প্রথম! ৪৫ কোটি টাকা নয়, বছরে ২২৪ কোটি টাকা গৃহকর দেবে চট্টগ্রাম বন্দর! চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) -এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিজয়!
২ নভেম্বর সোমবার, ২০২৬! এই দিন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের আদালতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ২২৪ কোটি ৭০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা গৃহকর ধার্য করে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন! ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর! আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি – সমস্ত অফিসিয়াল ডাটা নিয়ে!” “এই ২২৪ কোটি কিভাবে এলো? ১০ বছরের ডাটা শুনুন – ২০১৬-১৭ সালে পঞ্চবার্ষিক কর পুনর্মূল্যায়নে বন্দরের গৃহকর ধরা হয়েছিল ১৬০ কোটি টাকা।
কিন্তু বন্দরের আপত্তির মুখে সাবেক মেয়র মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরীর সময় তা কমিয়ে করা হয় মাত্র ৪৫ কোটি টাকা! সারচার্জ বাদ দিলে প্রকৃত আদায় হতো মাত্র ৩৫ কোটি টাকা! মানে চসিক প্রতি বছর ১১৫ কোটি টাকা হারাতো! ৩রা নভেম্বর ২০২৪ ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেন ‘এই লুটপাট চলবে না!’ তিনি ১৪ আগস্ট ২০২৪ – ৮ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠন করেন। ৬ জন কর্মকর্তা, ৩ জন বন্দরের, ৩ জন চসিকের। তারা অনুমান করলো বন্দরের মোট স্থাপনা ১ কোটি ৭৩ লাখ বর্গফুট!
এর মধ্যে আবাসিক ১৭ লাখ ২৪ হাজার ১০৬ বর্গফুট, অফিস, মার্কেট, হাসপাতাল, স্কুল ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৯ বর্গফুট, ইয়ার্ড ও স্টোরেজ ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬ বর্গফুট! এর ভিত্তিতে চসিক অ্যাসেস ভ্যালু ধরলো ১,৫৫০ কোটি টাকা! তার উপর আইন অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা!
কোন আইনে? স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ – চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (ট্যাক্সেশন) রুলস ১৯৮৬ – এর ১৭% এর মধ্যে ৭% হোল্ডিং ট্যাক্স! বন্দর বললো – ‘আমরা ১৪.৮৭ কোটি দেবো!’ চসিক বললো – ‘না, ২৬৪ কোটি দিতে হবে!’
বন্দর ১৩ এপ্রিল ২০২৫ – নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলো। মন্ত্রণালয় ২২ এপ্রিল ২০২৫ – স্পষ্ট জানিয়ে দিল – ‘কর নির্ধারণের ক্ষমতা একমাত্র সিটি কর্পোরেশনের, আমাদের কোনো এখতিয়ার নাই! টাকা দিতে হবে!’ চসিক ২২ এপ্রিল ২০২৫ – ২৬৪ কোটির নোটিশ দিল। বন্দর ২৮ এপ্রিল ২০২৫ – আপিল করলো বিভাগীয় কমিশনারে।শুনানি হলো ৩ মে ২০২৫ – মেয়রের উপস্থিতিতে!”
চূড়ান্ত রায় – ১০৩ পৃষ্ঠা: “তারপর কি হলো? বন্দর নিয়ম অনুযায়ী ৭৫% টাকা – ১৯৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা – জমা দিয়ে আপিল করলো।
২৯ জুন ২০২৬ – বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মুনিরুজ্জামান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে ১৯৮ কোটি টাকার চেক তুলে দেন টাইগারপাস অফিসে! এটা চসিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক আদায়!
দুই পক্ষ ১০৩ পৃষ্ঠার নথি জমা দিলো। অবশেষে ২ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার – চূড়ান্ত শুনানি! বিভাগীয় কমিশনারের আদালত ১৫% কর রহিত করে ২২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা – প্রায় ২২৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করলেন! আগের বকেয়া সহ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চসিক পাবে ২৫৫ কোটি টাকা! বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেছেন – ‘আমরা এখনো রায়ের কপি পাইনি!’ কিন্তু চসিকের রাজস্ব সার্কেল-৭ এর কর কর্মকর্তা এ কে এম সালাহউদ্দিন বলেছেন – ‘আগে পেতাম ৩৫ কোটি, এখন পাবো ২২৪ কোটি!'”
১. চট্টগ্রাম বন্দরের ৪০-৫০ টনের গাড়ি প্রতিদিন চসিকের রাস্তা ভাঙে। চসিককে বছরে ৪০০-৫০০ কোটি টাকা রাস্তা মেরামতে খরচ করতে হয়! কিন্তু বন্দর কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না!
২. চসিক ৭০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে। টাকা কোথায়? এই ২২৪ কোটি থেকে আসবে!
৩. আরো ১৯৭ কোটি টাকা বকেয়া আছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে – ১৫৪ কোটি পুরনো, ৪২ কোটি চলতি! ডা. শাহাদাত সবার কাছে নোটিশ পাঠিয়েছেন! ডা. শাহাদাত হোসেনের এই বিজয় – এটা চট্টগ্রামের বিজয়!
, বীর চট্টলা টিভি।”সত্যের সন্ধানে নির্ভীক