ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ইতিহাস! ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকার দরজা বন্ধ বৈঠক, সাংবাদিকরা কেন বাইরে? বাংলাদেশ সংবিধান, আমেরিকান সংবিধান ও ভিয়েনা কনভেনশন কী বলে?

আমি দাঁড়িয়ে আছি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের হৃদপিণ্ড – ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, আগ্রাবাদে। এই বিল্ডিংটি শুধু একটি বিল্ডিং নয়, এটি চট্টগ্রামের ৫ লাখ ব্যবসায়ীর সংসদ। আর আজ এখানে, এই ভবনের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হলো একটি ঐতিহাসিক বৈঠক।

একপাশে – H.E. Brent T. Christensen – গণতন্ত্রের সূতিকাগার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মান্যবর রাষ্ট্রদূত।
অন্যপাশে – Mr. Mohammad Amirul Haque – চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CCCI) এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট।

পেছনে লেখা – US-Bangladesh Trade 2025: $13.7 Billion। বাংলাদেশী টাকায় – ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা।

কিন্তু প্রশ্ন – এই ঐতিহাসিক বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল সীমিত। কেন? আমি আজ আইন দিয়ে, কূটনীতি দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো।

আমি তিনটি আইনের আলোকে ব্যাখ্যা করবো।

১. বাংলাদেশের সংবিধান: আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭-এ বলা আছে – “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।” তাহলে ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য, জনগণের টাকা, জনগণ জানবে না? আবার অনুচ্ছেদ ৩৯(২) – সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলো। আর তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ – জনগণের জানার অধিকার।

২. আমেরিকার সংবিধান: মার্কিন সংবিধানের First Amendment। যেটা আমেরিকান ডেমোক্রেসির ভিত্তি। এখানে বলা আছে – প্রেসকে বাধা দেওয়া যাবে না। মান্যবর রাষ্ট্রদূত নিজে এই আদর্শের প্রতিনিধি।

৩. আন্তর্জাতিক আইন ও চেম্বার আইন: ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনস ১৯৬১, আর্টিকেল ৪১ – এ বলা আছে – কূটনীতিকরা গ্রহণকারী রাষ্ট্রের আইনকে সম্মান করবেন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না। অর্থাৎ, রাষ্ট্রদূত চান স্বচ্ছতা।

আর ট্রেড অর্গানাইজেশন অ্যাক্ট ২০২২, ধারা ১৭ অনুযায়ী – চেম্বার অফ কমার্স একটি বেসরকারি বাণিজ্য সংগঠন, এটি জনস্বার্থে কাজ করবে এবং এর কার্যক্রমে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। চেম্বার কোনো গোপন সংস্থা নয়, এটি ব্যবসায়ীদের সেবা সংস্থা। তাহলে আইন অনুযায়ী – এই বৈঠক গোপন করার কোনো সুযোগ নেই।

তাহলে ভেতরে কী আলোচনা হয়েছে? আমি কূটনৈতিক সূত্রে যা পেয়েছি –

আলোচনা হয়েছে ART চুক্তি নিয়ে। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বাংলাদেশ ১৫ বিলিয়ন ডলারের LNG কিনবে। এই LNG আসবে চট্টগ্রাম দিয়েই। মহেশখালীতে FSRU টার্মিনাল হবে। আমেরিকান কোম্পানি Gunvor এবং Excelerate Energy এই কাজে আগ্রহী। রাষ্ট্রদূত মহোদয় একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন – “Level Playing Field”। মানে – সবাই যেন সমান সুযোগ পায়, কোনো দুর্নীতি যেন না হয়। এই কথাটি তিনি ঢাকায় FBCCI-তেও বলেছেন। অর্থাৎ, আমেরিকা চায় – টেন্ডারে স্বচ্ছতা। আর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রথম শর্ত হলো – মিডিয়ার উপস্থিতি।

তাই আমার বিনীত প্রস্তাব –

মান্যবর রাষ্ট্রদূত H.E. Brent T. Christensen, আপনাকে স্যালুট। আপনি চট্টগ্রামে এসেছেন, আপনি আমাদের বন্ধু। আমরা আপনার কাছে Foreign Direct Investment (FDI) চাই। চট্টগ্রাম বন্দর, মিরসরাই ইকোনমিক জোন – এখানে আমেরিকান বিনিয়োগ চাই।

আর আমার শ্রদ্ধেয় CCCI প্রেসিডেন্ট Mohammad Amirul Haque স্যার, আপনি আমাদের অভিভাবক। আপনি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক করেছেন। আপনার কাছে আমার অনুরোধ – পরবর্তী বৈঠকে আমাদের ডাকবেন। আমরা আপনার প্রতিপক্ষ নই, আমরা আপনার সহযোগী। আমরা আপনার মেগাফোন। আপনি যে ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করছেন, সেটা আমরা ২০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে দেব।

মনে রাখবেন – Diplomacy without press is like a ship without a compass. সাংবাদিককে সাথে নিন, জনগণকে সাথে নিন, তাহলেই চট্টগ্রামের বাণিজ্য বিশ্ব জয় করবে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, আগ্রাবাদ থেকে – এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি। আমি কারো শত্রু নই, আমি জনগণের বন্ধু, রাষ্ট্রের বন্ধু। ১৮ কুটি জনগণের কন্ঠ।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram