জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ৬টি চুক্তি, ১৭টি MoU – বাংলাদেশ-জাপান EPA ২০২৬ কার্যকর!

“বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ ৩০ অক্টোবর ভোরে ঢাকায় ফিরেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে তিনি ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সকালে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

২৭ অক্টোবর টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক হয়। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল – বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, ICT, রেলওয়ে এবং অবকাঠামোতে সহযোগিতা জোরদার করা।”

“এই সফরে কি কি হয়েছে?সরকারি গেজেট অনুযায়ী:

১. ৬টি সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে আছে – উপকূলীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ পরিবেশ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, মৎস্য ও জলবায়ু পরিবর্তন।

২. ৪৬.৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ২টি ঋণ প্রকল্প। একটি হলো ১৫.৮৮ বিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে, আরেকটি ৩০.৬৮ বিলিয়ন ইয়েন উপজেলা শাসন ও উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ-২ তে।

৩. ১৭টি MoU সই হয়েছে প্রাইভেট সেক্টরে JETRO তে – জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াবে। এছাড়া তিনি JICA প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, এবং টয়োটার মোতোমাচি ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেছেন।

“এবার আসেন আইনে – বাংলাদেশ ও জাপান দুই দেশের আইন কি বলে?

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী: বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) অনুযায়ী যে কোনো বিদেশি ঋণ সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। এবং EPA – Economic Partnership Agreement, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ সই হয়েছে, এটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত ঢুকবে। এটি বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক বাণিজ্য আইন ২০২২ এর আওতায় বৈধ।

জাপানের আইন অনুযায়ী: জাপানের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৩(২) অনুযায়ী জাপান সরকার ODA – Official Development Assistance এর মাধ্যমে ঋণ দিতে পারে। JICA আইন ২০০৩ এর আওতায় এই ৪৬.৫৬ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দেওয়া হয়েছে। জাপানের FOIP – Free and Open Indo-Pacific নীতির আওতায় বাংলাদেশ তাদের কৌশলগত অংশীদার।”

“এই সফরে বাংলাদেশের মানুষের লাভ কি?

লাভ ৩টা:
১. উপজেলা পর্যায়ে ৩০.৬৮ বিলিয়ন ইয়েন যাবে – মানে গ্রামের রাস্তা, ড্রেনেজ উন্নত হবে।

২. ১৭টি জাপানি কোম্পানি বিনিয়োগ করলে চট্টগ্রামে টয়োটার মতো কারখানা হতে পারে, লাখ লাখ চাকরি হবে।

৩. কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার আধুনিকায়ন ও ২য় সার কারখানা হলে সারের দাম কমবে।

ক্ষতি বা ঝুঁকি ১টা:
এই ঋণের সুদের হার কমানোর আলোচনা হয়েছে, কিন্তু ঋণ তো ঋণই। যদি সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে জনগণের ঘাড়ে ঋণের বোঝা পড়বে। তাই সরকারকে এখন টার্গেট, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও পাবলিক রিপোর্টিং নিশ্চিত করতে হবে। আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি, ১৮ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে বলছি – জাপান আমাদের বন্ধু, কিন্তু উন্নয়ন হতে হবে আমাদের শর্তে।

বীর চট্টলার টিভি ১৮ কোটি জনগণের কন্ঠ

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram