শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরছেন? ৬০০ মামলার জালে মৃ,ত্যু,দ,ণ্ড – ফিরলে কি হবে? ১৮ কোটি মানুষের জন্য ফ্যাক্ট-চেক |

“১৮ কোটি মানুষের কাছে আমার প্রশ্ন – একজন মানুষের মাথার উপরে যদি ৬০০ মামলা থাকে, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় আছে, তিনি কি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন? বীর চট্টলা টিভি র লিগ্যাল টিমের প্রতিবেদন । আজ কোনো দলের পক্ষে না, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক হয়ে শুধু আদালতের কাগজ দিয়ে কথা বলবো।

গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে – শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরছেন। সাধারণ আওয়ামী লীগের ভাই-বোনেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, রাস্তায় নামছেন, মামলা খাচ্ছেন। আসল সত্য কি? আমি আদালতের রায় থেকে বলছি।

“প্রথম প্রশ্ন – তার বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা?

আন্তর্জাতিক মিডিয়া Outlook India এবং The CSR Journal জানাচ্ছে – শেখ হাসিনা নিজেই অভিযোগ করেছেন তার বিরুদ্ধে ৬০০ এর বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মামলা কোনটি?

১. মানবতাবিরোধী অপরাধ – মৃত্যুদণ্ড:

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে গণহত্যা, হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এই রায় হয় নভেম্বর ২০২৫ সালে। তিনি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। আপনি ফিরলে আপনাকে এই রায়ের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণ করে আপিল করতে হবে, না হলে রায় কার্যকর হবে।

২. পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি – ৬টি মামলা:

দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৬টি প্লট দুর্নীতির মামলা করে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২টি মামলায় তাকে ৫ বছর করে জেল দিয়েছে। আবার ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অন্য ৩টি মামলায় তাকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। এই মামলাগুলোতে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকেও ৫ বছর করে জেল দেওয়া হয়েছে।

৩. রাষ্ট্রদ্রোহ – জয় বাংলা ব্রিগেড মামলা:

ডিসেম্বর ২০২৪ সালে জুম মিটিং-এ অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনা ১ নম্বর আসামি।” “এবার আসি দার্শনিক প্রশ্নে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতে থেকে তিনি অডিও বার্তা দিচ্ছেন। কিন্তু মাঝখানে কি হচ্ছে? মাঝখানে তার দলের তৃণমূলের নিরীহ ভাইটি রাস্তায় নামছে, পুলিশের লাঠি খাচ্ছে, মামলা খাচ্ছে, তার নামে নতুন মামলা হচ্ছে।

নেতারা কে কোথায়? আপনারা দেখুন – যারা উস্কানি দিচ্ছে, তারা সবাই নিরাপদে বিদেশে। আর যারা মাঠে, তারা জেলে। এটাই রাজনীতির নির্মম দর্শন। একজন দার্শনিক হিসেবে আমি বলবো – আবেগ দিয়ে রাজনীতি হয় না, আইন দিয়ে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই তাকে কারাগারে যেতে হবে। এটাই বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি।”

“তাই আমার এই নিউজের পরে আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো ভাই-বোনকে বলবো – আপনারা কোনো গুজবে রাস্তায় নামবেন না। আইন তার নিজের গতিতে চলবে। শেখ হাসিনা ফিরবেন কিনা, সেটা আদালত এবং দুই দেশের সরকারের বিষয়। ফেসবুকের গুজবে নিজের জীবন নষ্ট করবেন না। আপনার বিরুদ্ধে যদি মামলা থাকে, আইনজীবীর সাথে কথা বলুন। আন্দোলন করে মৃত্যুদণ্ডের রায় বদলানো যায় না, আপিল করে বদলাতে হয়। আমি বীর চট্টলা টিভি থেকে আহ্বান জানাই – আর কোনো মায়ের কোল খালি না হোক। আর কোনো তরুণ যেন ভুয়া খবরে বিভ্রান্ত হয়ে জেলে না যায়। আমি চাই সত্যের জয় হোক, আইনের জয় হোক।সত্যের সন্ধানে নির্ভীক –

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram