PCU হিসাব ছাড়া রাস্তা! CDA Act লঙ্ঘন করে জনগণের ৮০০ কোটি টাকা নষ্ট।

“PCU হিসাব ছাড়া রাস্তা! CDA Act লঙ্ঘন করে জনগণের ৮০০ কোটি টাকা নষ্ট – ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এর কাছে ৪টা প্রশ্ন” চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, “চট্টগ্রামকে যানজট মুক্ত, সবুজ নান্দনিক শহর করব”।

প্রশ্ন হলো , কিসের ভিত্তিতে?

বীর চট্টলা টিভির আজকেরএক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন: “কাজ আগে নয়, প্ল্যান আগে”। কারণ এই শহর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। এই শহর ১৮ কোটি মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কেনা। আর CDA, WASA, সিটি কর্পোরেশন – তারা জনগণের সেবক, মালিক না।

তথ্য ১: CDA Act 1959 এর ২৫ ধারা স্পষ্ট – “Master Plan ছাড়া কোনো উন্নয়ন হবে না”। চট্টগ্রামের সর্বশেষ Master Plan ১৯৯৫ সালের। ৩১ বছর পুরাতন। এটা দিয়ে ২০২৬ সালের ৭৫ লাখ মানুষের শহর চলছে।

তথ্য ২: BNBC :Bangladesh National Building Code 2020। প্রতিটি বাণিজ্যিক ভবনে বেজমেন্ট পার্কিং, Rain Water Harvesting, STP বাধ্যতামূলক। CDA অনুমোদিত ২০০০+ ভবনের ৮২% এ পার্কিং নাই। তাই রাস্তাই পার্কিং।

এবার ৪টা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্ন Engr. Belayet Hossain এর কাছে:

প্রশ্ন ১: Traffic Load Calculation কোথায়? ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভাষায় একে বলে PCU = Passenger Car Unit। একটা রাস্তা বানানোর আগে হিসাব করতে হয় দিনে কত PCU যাবে।
চট্টগ্রামে প্রতিদিন ৫ লাখ প্রাইভেট কার। CDA “স্কুল বাস” নামাচ্ছে, কিন্তু রাস্তার PCU Capacity বাড়াইছে? Singapore LTA land Transport authority যেভাবে “Transport Demand Model” করে, CDA কি সেটা করেছে? উত্তর: না।

প্রশ্ন ২: Drainage Design কোথায়? Tokyo তে ১ ঘণ্টায় ১০ মিমি বৃষ্টি হলেও পানি থাকে না। কারণ “Underground River”। CDA এর “Storm Water Drainage Master Plan 2026” কোথায়? নাই।

প্রশ্ন ৩: Utility Coordination কোথায়? ইঞ্জিনিয়ারিং টার্ম “Utility Conflict”। CDA রাস্তা বানায় – ১৫ দিন পর WASA পাইপ বসায়। ২ মাস পর বিদ্যুতের খাম্বা বসে। ৩ মাস পর গ্যাস লাইন। ৪ মাস পর সিটি কর্পোরেশন ড্রেন করে। একটা রাস্তা ৪ বার খোঁড়া = Rework Cost। বছরে জনগণের ৮০০ কোটি টাকা নষ্ট।

প্রশ্ন ৪: Structural Audit কোথায়? BNBC Bangladesh National Building Code 2020 মানা হচ্ছে? CDA Approval এর পর Monitoring করে কে? ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন “বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলবেন”। মানবো। কিন্তু আগে আপনারা সমন্বয় ঔকরেন।

কেস স্টাডি ১: আগ্রাবাদ এক্সেস রোড। CDA ২০২৪ এ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে রাস্তা করলো। ৪৫ দিন পর WASA ১২ ইঞ্চি পাইপের জন্য কাটলো। ২ মাস পর পল্লী বিদ্যুতের খাম্বা। ফলাফল: ৫০ কোটির রাস্তা ৬ মাসে শেষ।

কেস স্টাডি ২: পানি নিষ্কাশন। CDA বলে “মেইন ড্রেন আমাদের”। সিটি কর্পোরেশন বলে “লোকাল ড্রেন আমাদের”। WASA বলে “লিকেজ আমাদের”।
ফলাফল: ১ ঘণ্টা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ভেনিস।

বিশ্ব কি করে?
Singapore: LTA, PUB, public utilities board একটা “Common Utility Tunnel”। রাস্তা ৫০ বছরে ১ বারও খোঁড়া লাগে না। Dubai: সব ইউটিলিটি একসাথে বসে প্ল্যান করে। আর আমরা? ৩ প্রতিষ্ঠান, ৩টা প্ল্যান, ০% সমন্বয়।

বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ – “সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ”। ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদ – “রাষ্ট্রের দায়িত্ব পরিকল্পিত নগরায়ন করা”।

তাই বীর চট্টলা টিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে ৪ দফা:

১. “CDA (Amendment) Act 2026”: ৫ বছরে ১ বারের বেশি রাস্তা খোঁড়া নিষিদ্ধ। খুঁড়লে ৩ গুণ জরিমানা।

২. “PCU Based Road Design”: নতুন রাস্তা করার আগে ২০ বছরের Traffic Load Calculation বাধ্যতামূলক। MIT Massasusurt Institute of Technology এর মতো Software দিয়ে Simulation।

৩. “Digital Twin + GIS Integration”: CDA, WASA, সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। কাজের আগে 3D Simulation। এতে ২০০০ কোটি টাকা বাঁচবে।

৪. “Chief Urban Engineer Panel”:
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান। ৫ জন নগর পরিকল্পনাবিদকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিন। যারা বিশ্বের নান্দনিক শহর ঘুরে “Chattogram 2075 Master Plan” করে দিবে।ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, আপনি ইঞ্জিনিয়ার। আপনি জানেন “Design ছাড়া Construction মানে ধ্বংস”। আমরা সমালোচনা করছি না। আমরা সমাধান চাই। কারণ এই শহর আমাদের। এই ট্যাক্স আমাদের। এই কষ্ট আমাদের। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, CDA – আপনারা কি পারবেন? নাকি আগামী ১০ বছরেও আমরা একই রাস্তা ১০ বার খুঁড়তে দেখব? আপনার মতামত কি? কমেন্টে লিখুন “PCU হিসাব চাই, খোঁড়াখুঁড়ি নয়”।
শেয়ার করে CDA, WASA, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছে দিন। বীর চট্টলা টিভি – তথ্য দিয়ে কথা বলি, কারণ আমরা এই শহরের মালিক।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram