![]()
১. বাপ-দাদার জমি নদীতে গিলেছে, এখন নতুন চরে সেই জমি জেগেছে – দখল নিচ্ছে প্রভাবশালী চক্র! মালিক কাঁদছে, সংবিধান কি বলে?
২. নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো ভূমিহীনদের চর দখল করে মহিষের খামার! ভূমিমন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চায় কমলনগর ও রামগতির অসহায় পরিবার
“এই ছবিটা দেখুন। এই সবুজ ঘাসের চরে যে মহিষগুলো চলাফেরা করছে, এই চর একদিন ছিল আপনার বাপ-দাদার সোনার ফসলি জমি। মেঘনা নদী সেই জমি কেড়ে নিয়েছিল। আজ সেই জমি আবার ‘নয়া দ্বীপ’ নামে জেগে উঠেছে। কিন্তু সেই জমিতে এখন আপনি যেতে পারছেন না। কারণ সেখানে এখন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মহিষের চারণভূমি বানিয়ে ভাড়া দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ই আর্তনাদ লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরের বড়খেরী ইউনিয়নের শত শত ভূমিহীন কৃষক ।বীর চট্টলা টিভি দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নয়া দ্বীপ এর সঠিক তথ্য। আজ আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, দুই লাখ ৫০ হাজার নদী ভাঙা মানুষের কণ্ঠ হয়ে দেখাবো, কিভাবে আপনি আপনার চরের জমি ফিরে পাবেন, সংবিধান কি বলে?”
সংবিধান ও আইন –
“প্রথমে আসুন সংবিধান কি বলে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদ বলছে – আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের অধিকার আছে। আপনার বাপ-দাদার সম্পত্তি রাষ্ট্র আপনাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য।
এবার ভূমি আইন কি বলে?
এটাকে বলে পয়স্তি ও সিকস্তি আইন – State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ৮৬ ও ৮৭ ধারা।
সিকস্তি মানে – নদীতে ভেঙে যাওয়া জমি। পয়স্তি মানে – নদীতে ভেঙে যাওয়ার ৩০ বছরের মধ্যে আবার জেগে ওঠা চর। আইন বলছে, যদি আপনার জমি নদীতে ভেঙে যায়, এবং ৩০ বছরের মধ্যে সেই একই জায়গায় চর জাগে, তাহলে প্রকৃত মালিকই সেই চরের প্রথম দাবিদার। কোনো প্রভাবশালী মহল নয়।
তাহলে খাস জমি কখন হবে? যদি ৩০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে যায়, তখন সরকার সেটাকে খাস হিসেবে ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেবে। কিন্তু আমাদের নয়া দ্বীপের বয়স ৩০ বছরের অনেক কম, তাই এটি এখনো সিকস্তি-পয়স্তি সম্পত্তি, খাস নয়।” “এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ – যারা নদী ভাঙা, তারা কিভাবে দখল ফিরে পাবেন? ঘুম থেকে উঠে এই ৫টি কাগজ রেডি করুন। ভূমি মন্ত্রণালয় এই ৫টি কাগজকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।
১. CS, SA, RS, BS পর্চা / খতিয়ান: আপনার বাপ-দাদার নামে যে পর্চায় জমি ছিল, সেটাই আপনার মূল অস্ত্র।
২. দলিল ও বায়া দলিল: যে দলিলে আপনি বা আপনার বাবা জমি কিনেছিলেন।
৩. নদী ভাঙনের প্রত্যয়ন পত্র: আপনার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে একটি প্রত্যয়ন নেবেন যে, আপনার মৌজার এত নং দাগ নদীতে বিলীন হয়েছে।
৪. ওয়ারিশ সনদ ও NID: আপনি যে প্রকৃত মালিকের ওয়ারিশ, তার প্রমাণ।
৫. মৌজা ম্যাপ ও দাগের তথ্য: পুরাতন ম্যাপে আপনার দাগ কোথায় ছিল, তার স্কেচ।
কোথায় আবেদন করবেন?
প্রথমে – সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউএনও, রামগতি বরাবর লিখিত আবেদন। সাথে এই ৫টি কাগজ।
দ্বিতীয় – জেলা প্রশাসক, লক্ষ্মীপুর বরাবর অনুলিপি।
তৃতীয় – ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৬১২২ এবং ভূমি সেবা পোর্টালে অনলাইন অভিযোগ।
রামগতি ইউএনও শেখ এহসান উদ্দীন বীর চট্টলা টিভিকে বলেছেন ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দখলদার ও অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। অর্থাৎ প্রশাসন আপনার পক্ষে।”
“আমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি – এই নয়া দ্বীপ চরকে কোনো মহিষের খামার মালিকের কাছে ভাড়া নয়, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো শাহাবুদ্দিনদের মত শত শত ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে বন্দোবস্ত দিন।
আর যারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই চর দখলের পাঁয়তারা করছেন, তাদের বলছি – সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করবেন না, ভূমি দস্যুতা আইনে ৭ বছরের জেল হতে পারে।
আপনি যদি নদী ভাঙা পরিবার হন, আজই আপনার কাগজপত্র নিয়ে চট্টগ্রামে বীর চট্টলা টিভির অফিসে চলে আসুন। আমরা আপনার কণ্ঠ ১৮ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো, আপনার আবেদন আমরা নিজে গিয়ে ইউএনও অফিসে জমা দেবো।
বীর চট্টলা টিভি – ভূমিহীনের পক্ষে, ১৮ কোটি মানুষের কণ্ঠ।”