
প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব—এমন দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। ইরানের মধ্যস্থতায় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম *টাইমস অব ইন্ডিয়া*র মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরান সফর করেন। একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সৌদি মন্ত্রী তাঁর হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে ১০০ কোটি ডলার তেহরানে নিয়ে এসেছিলেন। তবে এ অর্থ বহন বা হস্তান্তরের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত কমানো এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইরান মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর ছিল উত্তেজনা হ্রাস, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধান উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার অংশ। পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের পরিচালিত মধ্যস্থতা উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এক সৌদি কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও তিন বছর আগে হওয়া একটি সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধকে সংঘাতের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টিও সমঝোতার অংশ ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুললেও সৌদি আরবের অবস্থান হলো, সামরিক চাপের মুখে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে যেতে তারা রাজি নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি নেতৃত্বের এ বৈঠক ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এ উদ্যোগের রূপরেখা তৈরি হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হুথিদের হামলা বন্ধের বিনিময়ে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এবং সামরিক বিমানে করে ওই অর্থ তেহরানে নেওয়ার দাবি—কোনোটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।