
লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুরির ঘটনা আড়াল করতে নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগে মোঃ রেদুয়ানুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাই ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের প্রথম তলায় অবস্থিত ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামের দোকানটি বন্ধ করে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যান মালিক বাবলু পাল। পরদিন ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকানে ফিরে তিনি দেখতে পান, দোকানের স্লাইডিং গ্লাসের দরজার তালা খোলা এবং ভেতরে থাকা মূল্যবান ক্যামেরা ও সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে গেছে।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল তিনটি SONY α7III ক্যামেরা, একটি SONY α7C ক্যামেরা, বিভিন্ন মডেলের আটটি ক্যামেরা লেন্স, দুটি ক্যামেরার ব্যাটারি ও একটি চার্জার। এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা।
এদিকে, গত ১২ অক্টোবর রেশমী আক্তার নামে এক নারী থানায় অভিযোগ করেন, তার স্বামী মোঃ রেদুয়ানুল হককে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে।
চুরির ঘটনা ও কথিত অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর লোহাগাড়া থানা পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের ওয়েডিং ফটোগ্রাফি দোকানসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। একপর্যায়ে চুরির ঘটনার সঙ্গে রেদুয়ানুল হকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তার অপহরণের অভিযোগ নিয়েও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা এলাকার আওয়ার পাড়া থেকে রেদুয়ানুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার নিজ বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া সব ক্যামেরা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রেদুয়ানুল হক চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি চুরির ঘটনা আড়াল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিজেই আত্মগোপনে থেকে স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করানোর বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।
চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে অপহরণের নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি রেদুয়ানুল হকের। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনা