“সীতাকুন্ড-সন্দ্বীপ নৌ-রুটে ST নিঝুম দ্বীপ প্রত্যাহার মানে ৪ লাখ মানুষকে সাগরে ঠেলে দেওয়া! BIWTC চেয়ারম্যান ATM আব্দুল বারী ড্যানির কাছে সন্দ্বীপ সিভিল সোসাইটির খোলা চিঠি – ১৮ কোটি মানুষের প্রশ্ন, নৌ-যান থাকবে না কি থাকবে না?

“বিশ্বের মানচিত্রে সন্দ্বীপ একটা দ্বীপ না, এটা একটা অভিশাপের নাম ছিল একসময়! আমি ইতিহাস দিয়ে শুরু করছি – ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ আমলে সন্দ্বীপের জনসংখ্যা ছিল ৪০ হাজার। আজ ২০২৬ সালে – ৪ লাখের বেশি মানুষ এই দ্বীপে বন্দী! বন্দী কেন বললাম? কারণ সন্দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে আসতে হলে আপনাকে পার হতে হবে ১৮ কিলোমিটার উত্তাল বঙ্গোপসাগর।

১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই রুটে ১৫ টার বেশি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছে। মনে আছে ২০১৭ সালে লাল বোট ডুবি? ১৮ জন মারা গিয়েছিল! তাই যখন সরকার ST নিঝুম দ্বীপ নামে একটি আধুনিক সি-ট্রাক দিয়েছিল, তখন ৪ লাখ মানুষ ভেবেছিল – আমরা এবার বাঁচলাম! আর আজ শুনছি – সেই ST নিঝুম দ্বীপকে নাকি এই রুট থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে!

কি লেখা আছে? ‘সিট্রাক এস.টি. নিঝুম দ্বীপ প্রত্যাহার না করতে BIWTC-র চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানি বরাবর চিঠি – সন্দ্বীপ সিভিল সোসাইটি, চট্টগ্রাম এর!’ ০১ নভেম্বর ২০২৬। চিঠি দিয়েছে কারা? সন্দ্বীপ সিভিল সোসাইটি, চট্টগ্রাম – যেখানে সন্দ্বীপের সাবেক এমপি, সচিব, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররা আছেন।

চিঠি পেয়েছেন কে? BIWTC-র চেয়ারম্যান ATM আব্দুল বারী ড্যানি – যিনি এই নৌ-রুটের মালিক সংস্থার প্রধান। কেন চিঠি? কারণ ST নিঝুম দ্বীপ হলো সন্দ্বীপ-সীতাকুণ্ড (বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া) রুটের একমাত্র নিরাপদ, সরকারি, ভরসার বাহন। বেসরকারি লাল বোটে ভাড়া ৩০০ টাকা, জীবনের কোনো গ্যারান্টি নাই। আর ST নিঝুম দ্বীপে ভাড়া ১০০ টাকা, সরকারি নিরাপত্তা আছে।”

“এবার ইতিহাস ও সংবিধান দিয়ে বুঝো – কেন এটা ১৮ কোটি মানুষের ইস্যু?

ইতিহাস ১: নদী-সাগর বেষ্টিত বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদ বলে – খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সন্দ্বীপের মানুষ চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম আসতে না পারলে, এই অধিকার লঙ্ঘন হবে। ST নিঝুম দ্বীপ সরালে, একজন গর্ভবতী মা, একজন হার্টের রোগী সাগরে মারা যাবে – এর দায় কে নেবে?

ইতিহাস ২: বিশ্বে দ্বীপ রাষ্ট্রের উদাহরণ। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন – তারা দ্বীপের জন্য ফেরি সার্ভিসকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে না, দেখে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে। BIWTC-ও লাভের জন্য না, সেবার জন্য। ST নিঝুম দ্বীপ যদি লাভ না দেয় বলে সরানো হয়, তাহলে সন্দ্বীপের ৪ লাখ মানুষকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা করে দেওয়ার সামিল।

ইতিহাস ৩: ১৮ কোটি মানুষের অর্থনীতি। সন্দ্বীপ শুধু দ্বীপ না, সন্দ্বীপ বাংলাদেশের অর্থনীতির ফুসফুস। প্রতিদিন সন্দ্বীপ থেকে ৫০০ মণ মাছ, ১০০০ লিটার দুধ, হাজার হাজার শ্রমিক চট্টগ্রামে আসে। এই ST নিঝুম দ্বীপ বন্ধ হলে, চট্টগ্রামের বাজারে মাছের দাম বাড়বে, শ্রমিক সংকট হবে। তাই এটা সন্দ্বীপের না, ১৮ কোটি মানুষের ইস্যু।”

“তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী, এবং BIWTC চেয়ারম্যান ATM আব্দুল বারী ড্যানি কে বলব – , সন্দ্বীপ সিভিল সোসাইটির চিঠিটা ফেলে দেবেন না। ST নিঝুম দ্বীপ প্রত্যাহার করবেন না। বরং এই রুটে আরও দুইটা সি-ট্রাক দিন – ST সন্দ্বীপ ও ST বঙ্গবন্ধু – যেমনটা আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মনে রাখবেন, যে সরকার দ্বীপের মানুষকে সাগর থেকে বাঁচায়, ইতিহাস সেই সরকারকে মনে রাখে।

আর যদি এই জাহাজ সরানো হয়, তাহলে ৪ লাখ মানুষের অভিশাপে – আপনি ইতিহাসে কালো হয়ে থাকবেন। সন্দ্বীপবাসী, আপনারা কি চান ST নিঝুম দ্বীপ থাকুক? কমেন্টে লিখুন – ‘ST নিঝুম দ্বীপ চাই’।

আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, চেয়ারম্যান – বীর চট্টলা টিভি, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক।”

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

“সীতাকুন্ড-সন্দ্বীপ নৌ-রুটে ST নিঝুম দ্বীপ প্রত্যাহার মানে ৪ লাখ মানুষকে সাগরে ঠেলে দেওয়া! BIWTC চেয়ারম্যান ATM আব্দুল বারী ড্যানির কাছে সন্দ্বীপ সিভিল সোসাইটির খোলা চিঠি – ১৮ কোটি মানুষের প্রশ্ন, নৌ-যান থাকবে না কি থাকবে না?

“চট্টগ্রামের ইতিহাসে প্রথম! ৪৫ কোটি নয়, বন্দর দেবে ২২৪ কোটি টাকা! ডা. শাহাদাতের একক লড়াই, হাইকোর্ট থেকে বিভাগীয় কমিশনারের আদালত – ১০৩ পৃষ্ঠার রায়ে চসিকের বিজয়, বকেয়া সহ ২৫৫ কোটি পাবে!