![]()
“চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বছরে রাজস্ব আসে ৮০ হাজার কোটি টাকা। সেই রাজস্বের জন্মস্থান চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পুরনো কাস্টমস হাউস। কিন্তু কোটি টাকার সেই সরকারি সম্পদ আজ বিক্রি হয়ে গেছে গোপনে, কোনো টেন্ডার ছাড়াই। বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য – সরকারি নীতিমালাকে কিভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।”
“আমরা ৫টি আইন ও সরকারি আদেশ হাতে নিয়ে আজ প্রশ্ন করছি –
১: সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ (PPA 2006): এই আইনটি ৬ জুলাই ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদে পাশ হয়। এই আইনের ধারা ৭(২) এ স্পষ্ট বলা আছে – সরকারি ক্রয় ও সরকারি সম্পত্তি নিষ্পত্তিতে অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। গোপনে একজনকে কাজ দেওয়া মানে এই আইন লঙ্ঘন।
২: সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০০৮ (PPR 2008): এটি কার্যকর হয় ৩১ জানুয়ারি ২০০৮ সালে। এই বিধিমালার বিধি ৯০ থেকে ৯৫ পর্যন্ত বলা আছে – সরকারি সম্পত্তি কিভাবে বিক্রি করতে হবে। আর বিধি ১২৮(২) এ সরাসরি বলা আছে – সকল দরপত্র ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম অবশ্যই ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (e-GP) পোর্টালের মাধ্যমে করতে হবে।
৩: e-GP বাধ্যতামূলক পরিপত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে সকল মন্ত্রণালয়ে e-GP বাধ্যতামূলক করা হয়। এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৫ জুন ২০২২ তারিখের পরিপত্র নং – ০৭.০০.০০০০.১৬১.৫১.০০১.২০.১৮ এ বলা আছে – ৫ লক্ষ টাকার উপরে যে কোনো সরকারি কাজ e-GP ছাড়া করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। পুরনো কাস্টমস হাউসের কাজ কি ৫ লক্ষ টাকার নিচে? কখনোই না, এটি কোটি টাকার কাজ।
৪: কাস্টমস আইন ২০২৩: নতুন কাস্টমস আইন ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর পাশ হয়। এই আইনের ধারা ৩০০ অনুযায়ী কাস্টমসের কোনো স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এর পূর্বানুমোদন লাগবে। আমরা NBR এ খোঁজ নিয়েছি, এমন কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
৫: সংবিধানের ৫৯ ও ১৯ অনুচ্ছেদ: ৫৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে – সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। আর ১৯(২) এ বলা আছে – সুযোগের সমতা। ১৭টি কোম্পানি প্রোফাইল দিল, একজন পেল – এটা কি সমতা?”
“আমরা e-GP পোর্টাল eprocure.gov.bd এ ০১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সার্চ করেছি। Chattogram Custom House নামে পুরনো ভবন বিক্রি বা সংস্কারের কোনো টেন্ডার আইডি (Tender ID) আমরা পাইনি।
যদি e-GP তে টেন্ডার না থাকে, তাহলে কাজটি কোন আইনে দেওয়া হলো? আমরা ভুক্তভোগী ৩টি প্রতিষ্ঠানের রিসিভ কপি পেয়েছি, যারা ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে তাদের প্রোফাইল জমা দিয়েছিল। তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।”
“তাই আমরা আজ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে ৩ দফা দাবি জানাচ্ছি –
১. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে NBR চেয়ারম্যান মহোদয়কে এই e-GP বিহীন বরাদ্দের ওপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
২. PPR 2008 এর বিধি ১২৮ লঙ্ঘন করে যে কর্মকর্তা কাজটি দিয়েছেন, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক আইনে তদন্ত করতে হবে।
৩. পুরনো কাস্টমস হাউসের সকল নথি e-GP তে প্রকাশ করতে হবে।
কারণ এই ভবন কোনো ব্যক্তির নয়, এটি রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রের সম্পদ লুটের অধিকার কারো নেই। আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি, চট্টগ্রাম পুরনো কাস্টমস হাউসের সামনে থেকে।