৩৫ লাখের লোন, ২৭ লাখ শোধ, তবুও খেলাপি! বাকি ৮ লাখ দিলেই কি মুক্তি? নাকি ৮ লাখের উপর আবার ১২ লাখ সুদ? বাংলাদেশ ব্যাংকের One Time Exit-এ ফাঁস হলো আসল অংক!

“৩৫ লাখের লোন, ২৭ লাখ শোধ, তবুও খেলাপি! বাকি ৮ লাখ দিলেই কি মুক্তি? নাকি ৮ লাখের উপর আবার ১২ লাখ সুদ? বাংলাদেশ ব্যাংকের One Time Exit-এ ফাঁস হলো আসল অংক!” আব্দুল করিম সাহেব ১৫ বছরের জন্য ৩৫ লাখ টাকা লোন নিয়েছেন, লোন শেষ হবে ২০৩২ সালে। তিনি এ পর্যন্ত ২৭ লাখ টাকা শোধ করেছেন। এখন তিনি ভাবছেন – আমি পুরো টাকা দিয়ে বের হয়ে যাবো। প্রশ্ন হলো – তিনি কি ৮ লাখ দিলেই মুক্তি পাবেন? নাকি ৮ লাখের সাথে আরো সুদ দিতে হবে? এখানেই বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক আইন আর অর্থমন্ত্রীর কথার মারপ্যাঁচ।

ব্যাংকে আপনি যখন ২৭ লাখ টাকা দেন, তখন ব্যাংক সেটা দুই ভাগে ভাগ করে –
১. প্রথমে সুদ কাটে।
২. তারপর আসল কাটে।

ধরেন, আব্দুল করিমের ৩৫ লাখের উপর ৩ বছরে সুদ হয়েছে ১৮ লাখ। মোট দেনা ৫৩ লাখ। তিনি ২৭ লাখ দিয়েছেন। তাহলে ব্যাংক ১৮ লাখ সুদ কেটে নিয়ে, বাকি ৯ লাখ আসল থেকে কাটবে।

তাহলে এখনও তার আসল বাকি = ৩৫ লাখ – ৯ লাখ = ২৬ লাখ টাকা আসল বাকি। আর সুদের খাতায় আরও ১০ লাখ টাকা অনাদায়ী সুদ জমে আছে, যেটা Interest Suspense Account-এ পড়ে আছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ জুন ২০২৬ এর BRPD সার্কুলার, যা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর, কী বলছে?

আইন ১: ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ২৮ ধারা ও ৪৫ ধারা – আসল টাকা কখনো মাফ হবে না। সুদ মাফ হতে পারে।
আইন ২: সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদ – জনগণের টাকা মাফ করতে হলে সংসদকে জানাতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ অনুযায়ী গভর্নর বিশেষ ক্ষমতায় এই সার্কুলার দিতে পারেন।

তাহলে আব্দুল করিমের জন্য সমাধান ২টা –

সমাধান ১: One Time Exit – একবারে বের হওয়া, যদি তার লোন Bad/Loss হয়ে থাকে, তাহলে তিনি যদি বাকি ২৬ লাখ টাকা আসল একবারে দিয়ে দেন, তাহলে ব্যাংকের বোর্ড চাইলে ১০ লাখ টাকা অনাদায়ী সুদ পুরো মাফ করে দিতে পারে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক Cost of Fund এর শর্ত শিথিল করে দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী এজন্যই বলেছেন – “ব্যাংক এই টাকা জীবনে পাবে না, তাই মাফ করে খাতা পরিষ্কার করাই ভালো।”

সমাধান ২: Early Settlement – আগে ভাগে শোধ, যদি তার লোন এখনও নিয়মিত থাকে, Bad/Loss না হয়, তাহলে তিনি ২৬ লাখ আসল + চলতি সুদটা দিয়ে বের হতে পারবেন। কোনো সুদ মাফ পাবেন না। তাকে পুরো টাকা দিতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো – ৩৫ লাখের লোক ৮ লাখ দিয়ে বের হতে পারবে কি?

উত্তর: না, পারবে না। যদি সে ২৭ লাখের মধ্যে ৯ লাখ আসল শোধ করে থাকে, তাহলে তাকে ২৬ লাখ আসল দিতে হবে, ৮ লাখ নয়। আর যদি সে ২৭ লাখের পুরোটাই আসল শোধ করে থাকে – যেটা হয় না, ব্যাংক আগে সুদ কাটে – তাহলে সে ৮ লাখ দিয়েই মুক্তি পাবে, আর তার উপর জমে থাকা সুদ, ধরেন ১২ লাখ, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়মে মাফ হয়ে যাবে।

এটাই হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাঁদ। গরিব মানুষ ভাবে – ৩৫ লাখের ২৭ লাখ দিয়েছি, ৮ লাখ দিলেই শেষ। কিন্তু ব্যাংক বলে – না, আপনি ২৭ লাখের ১৮ লাখ সুদ দিয়েছেন, আসল দিয়েছেন ৯ লাখ। তাই আরও ২৬ লাখ দিন। এজন্যই হাজার হাজার মধ্যবিত্ত আজ খেলাপি।

তাই আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দাবি জানাই –

১. প্রতিটি গ্রাহককে SMS দিয়ে জানান – তার কত টাকা আসল বাকি, কত টাকা সুদ বাকি।
২. One Time Exit-এ কৃষক ও CMSME-র জন্য আলাদা কাউন্টার খুলুন।
৩. Wilful Defaulter – ইচ্ছাকৃত খেলাপি আর Genuine খেলাপির তালিকা আলাদা করুন।

বীর চট্টলা টিভি লিগ্যাল টিমের দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, আমরা সুদ মাফের বিরুদ্ধে নই, আমরা হিসাবের স্বচ্ছতার পক্ষে।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram