![]()
লক্ষ্মীপুর। আয়তন ১৪৪০ বর্গ কিলোমিটার। ৫টি উপজেলা – লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর। ৫৮টি ইউনিয়ন। জনসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। এই ২০ লাখ মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতাল কয়টা? একটা। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল। আর সেই হাসপাতালের চিত্র কী? আজ বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়: আমরা দেখলাম – এটি হাসপাতাল নয়, এটি একটি মৃত্যুকূপ।
১. সার্জারি বিভাগ – Dead: মেডিকেল সায়েন্সে বলে – Acute Abdomen, Appendicitis, Perforation, RTA – Road Traffic Accident এর রোগীর জন্য Golden Hour হলো ১ ঘণ্টা। ১ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন না হলে রোগী মারা যায়। লক্ষ্মীপুরে দীর্ঘ ১ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো জেনারেল সার্জারি কনসালটেন্ট নেই। ফলে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন রোগীকে রেফার করা হয়। পথেই মৃত্যু।
২. অর্থোপেডিক – Overloaded: ১ জন অর্থোপেডিক সার্জন, প্রতিদিন ১৫০-২০০ জন রোগী। WHO-র স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী – ১ জন ডাক্তার সর্বোচ্চ ৩০ জন রোগী দেখতে পারে। এখানে ২০০ জন। তাহলে চিকিৎসা হবে কীভাবে? তিনি নিজেই Musculoskeletal Disorder-এ আক্রান্ত হয়ে যাবেন।
৩. মেডিসিন, গাইনি, শিশু – সব ফাঁকা: ২৭ জন কনসালটেন্ট থাকার কথা, আছে ৯ জন। ৪০ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা, আছে ১৮ জন। নার্স ১০০ জনের জায়গায় ৪৫ জন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে বীর চট্টলা টিভির লিগেল টিমের তথ্য অনুযায়ী
সকাল ৯টায় হাসপাতালে ডাক্তারের ডিউটি। কিন্তু ডাক্তার হাসপাতালে নেই। তিনি কোথায়? তিনি পাশের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। অভিযোগ – হাসপাতালে রোগীকে বলেন – “এখানে হবে না, আমার ক্লিনিকে আসেন, ৫০০-১০০০ টাকা ফি।”
এটি সরাসরি আইন লঙ্ঘন।
ক) সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ এর ১৭ ধারা – ডিউটি চলাকালীন প্রাইভেট প্র্যাকটিস দণ্ডনীয় অপরাধ।
খ) মেডিকেল প্র্যাকটিস ও প্রাইভেট ক্লিনিক রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৯৮২ – সরকারি হাসপাতালের রোগীকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া প্রতারণা।
গ) সংবিধানের ১৫(ক) ও ১৮(১) ধারা – রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের পুষ্টি ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
একজন রিকশাওয়ালা ১০০০ টাকা ফি কোথায় পাবে? তাই সে বিনা চিকিৎসায় মরে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যিনি এই লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান – আপনার কাছে ২০ লাখ মানুষের আকুল আবেদন। আপনি নদী ভাঙন রোধে কোটি টাকা দেন, কিন্তু মানুষ ভাঙন রোধে কী দিচ্ছেন?
আমরা ২০ লাখ মানুষের পক্ষ থেকে ৩ দফা দাবি জানাচ্ছি –
১. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনি ও এনেস্থেসিয়া ডাক্তার পদায়ন করতে হবে।
২. সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত কোনো ডাক্তার প্রাইভেট ক্লিনিকে থাকলে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও মোবাইল কোর্টে জরিমানা করতে হবে।
৩. হাসপাতালে বায়োমেট্রিক হাজিরা ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
ডাক্তাররা আমাদের শত্রু নন। তারা আমাদের ভাই। কিন্তু যে ডাক্তার গরিবের বুকে লাথি মেরে ক্লিনিকে ১০০০ টাকা নেয়, সে ডাক্তার নয়, সে ব্যবসায়ী। আমরা চাই – ডাক্তাররা এই নিউজ দেখে হাসপাতালে ফিরে আসুক, মানুষকে বুকে টেনে নিন । তাহলেই ২০ লাখ মানুষ বাঁচবে। বীর চট্টলা টিভি র দীর্ঘ অনুসন্ধান মূলক প্রতিবেদন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে