
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির এক সপ্তাহ না পেরোতেই এবার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট-সংলগ্ন তারকা হোটেল দ্য সি প্রিন্সেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে হোটেলটির নিচতলার পার্কিং এলাকায় আগুন লাগে। এ সময় হোটেলের শতাধিক কক্ষে থাকা প্রায় ৩০০ পর্যটক দ্রুত বেরিয়ে পাশের সমুদ্রসৈকতে আশ্রয় নেন। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হোটেল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে হোটেলটির পার্কিং এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেয়ে পথচারী ও হোটেলকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নয়তলা ভবনের বিভিন্ন কক্ষে থাকা পর্যটকেরাও নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত হোটেল থেকে বেরিয়ে পাশের সৈকতে চলে যান।
খবর পেয়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও হোটেল কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। অগ্নিকাণ্ডে পার্কিং এলাকার জেনারেটরসহ বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেনারেটরের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত নিকটবর্তী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একটি ইউনিট পাঠানো হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জেনারেটরের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর দাবি হোটেল কর্তৃপক্ষের
দ্য সি প্রিন্সেস হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদের বলেন, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল। কর্মীদের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। হোটেলে অবস্থানরত সব পর্যটক নিরাপদে রয়েছেন।
কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুমে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল ও রিসোর্টগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও জরুরি বহির্গমন পথ নিয়মিত পরীক্ষা এবং কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।