
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | কবির হোসেন রাকিব
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হয়ে ফজলে আলী হাজারি (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল আসরের নামাজের সময় উপজেলার ৮ নম্বর চর কাদিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফজলে আলী হাজারি ওই এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় মোহাম্মদ মাহফুজ (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তাঁকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মাহফুজ স্থানীয় আবু তাহেরের ছেলে। ঘটনার পর অভিযুক্তসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ দেলোয়ার মাহমুদ (২০) ও জেরিন (১৮)-এর মধ্যে আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে প্রায় ছয় মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর দেলোয়ার তাঁর সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেরিনের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় জেরিনের খালাতো ভাই মোহাম্মদ মাহফুজ বটতলী বাজারে তাঁর আত্মীয় ফজলে আলী হাজারির কাছে গিয়ে দেলোয়ারের ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি জানতে চান। এ সময় ফজলে আলী হাজারি জানান, দেলোয়ার বর্তমানে বাড়িতে নেই। তিনি বাড়িতে ফিরলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে ফজলে আলী হাজারিকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মারধরে গুরুতর আহত ফজলে আলী হাজারিকে প্রথমে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়নি বলে জানা গেছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মাহফুজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং দায়ীদের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যাবে।”