![]()
“প্রতিশ্রুতি ছিল ১ কোটি। হিসাব বলছে মাইনাস ৬০ হাজার। একটি সংখ্যা শুধু সংখ্যা না। একটি সংখ্যা মানে ৬০ হাজার স্বপ্ন ভাঙা। ৬০ হাজার পরিবারের চুলায় আগুন নেই । আজকে বীর চট্টলা টিভি’র ৩ মাসের অনুসন্ধান। ৬টি ডিপার্টমেন্ট। ১টি জাতীয় প্রশ্ন।”
৬ ডিপার্টমেন্টের ভয়াবহ চিত্র – `”অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে:
১. শিল্প-গার্মেন্টস ডিপার্টমেন্ট: ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জে গত ৬ মাসে ১৫০+ কারখানা বন্ধ। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক: ৪০ হাজার। কারণ: গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংক ঋণ, রপ্তানি আদেশ কম।
২. ব্যাংকিং-আর্থিক ডিপার্টমেন্ট: তারল্য সংকটে ৮টি বেসরকারি ব্যাংক শাখা বন্ধ। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার কর্মকর্তার চাকরি অনিশ্চিত বা ছাঁটাই।
৩. প্রশাসন-স্বায়ত্তশাসিত ডিপার্টমেন্ট: প্রকল্প ও চুক্তিভিত্তিক ১২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চুক্তি নবায়ন হয়নি। নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ৭০% কম।
৪. স্বাস্থ্য-শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট: বেসরকারি হাসপাতাল ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হওয়ায় ৫ হাজার নার্স, শিক্ষক, কর্মচারী বেকার।
৫. পরিবহন-লজিস্টিক ডিপার্টমেন্ট: জ্বালানি ও টোল বৃদ্ধিতে ২০০০+ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক রাস্তায়। ড্রাইভার-হেলপার বেকার ৩ হাজার।
৬. ক্ষুদ্র ব্যবসা-মার্কেট ডিপার্টমেন্ট: ভাড়া ও কাঁচামালের দাম বাড়ায় ২ হাজার দোকান বন্ধ।
মোট: ৬০ হাজার। এই ৬০ হাজার মানে প্রায় ৩ লাখ মানুষ আজ অনাহার-অনিশ্চয়তায়।”
আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে মতে, “বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট লেখা ছিল: ‘ক্ষমতায় গেলে ১ কোটি কর্মসংস্থান’। সংবিধান অনুচ্ছেদ ১৫: ‘রাষ্ট্র কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে’। অনুচ্ছেদ ১৯: ‘সুযোগের সমতা’।
ইতিহাস সাক্ষী- শহীদ জিয়া বলেছিলেন: ‘উৎপাদন বৃদ্ধি করো, জাতি বাঁচাও’। ৩১ দফা তে বলা হয়েছে: ‘তরুণ-নারীর জন্য কাজের সুযোগ’। আই সি ডি ডি আর বি নির্বাহী পরিচালক গবেষক ডক্টর তাহমিদ আহমেদ বলেন : ‘চাকরি না থাকলে মেধা পাচার হয়। জাতি মেধাশূন্য হয়ে যায়।দেশের অর্থনীতি ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম প্রদান, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ডক্টর রেহমান সোবান বলেন এটা শুধু অর্থনৈতিক সংকট না, এটা সামাজিক টাইম বোমা। নারী উদ্যোক্তা দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান এবং জনতা ব্যাংকের প্রথম নারী চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা বলেন: ‘ঘরের পুরুষ চাকরি হারালে প্রথম কষ্টটা মা-বোনদেরই হয়। রান্নার হাঁড়িতে টান পড়ে।'”
৪ দফা জাতীয় দাবি – ১৮ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে বীর চট্টলা টিভি র ৪ দফা দাবি:
দফা ১: ৯০ দিনের মধ্যে বন্ধ শিল্প চালুর জন্য ‘জরুরি প্রণোদনা তহবিল’।
দফা ২: ব্যাংক-প্রশাসনে দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ।
দফা ৩: নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ।
দফা ৪: ৩১ দফার আলোকে ‘জাতীয় কর্মসংস্থান কমিশন’ গঠন। প্রতি মাসে সংসদে রিপোর্ট।”
`”শহীদ জিয়া বলেছিলেন: ‘খালি পেটে গণতন্ত্র থাকে না’ দেশনায়ক তারেক রহমান ৩১ দফায় বলেছেন: ‘তরুণের হাতে কাজ, জাতির হাতে ভবিষ্যৎ’।
১ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি জাতি মনে রেখেছে। ৬০ হাজার চাকরি হারানোর আর্তনাদও জাতি শুনেছে।
প্রশ্ন একটাই: ইশতেহার কি ফাইলেই থাকবে, নাকি মানুষের পেটে ভাত দেবে? বীর চট্টলা টিভি ৩০ দিন পর আবার এই ফাইল খুলবে। হিসাব নেবে। কারণ অনুসন্ধান থামবে না। সত্যের সাথে আপোষ নাই।