‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুলিশের বন্ধু কে?

আজকের প্রতিবেদনটি কোনো অপরাধের নয়, আজকের প্রতিবেদনটি যারা আমাদেরকে নিরাপদ রাখে, সেই পুলিশ ভাইদের নিয়ে। পুলিশের স্লোগান – ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুলিশের বন্ধু কে? আমি আজ বাংলাদেশ পুলিশ আইন, বাংলাদেশ সংবিধান, এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ আইন থেকে কথা বলবো।

প্রথমে আসি – বাংলাদেশ পুলিশ আইন ১৮৬১ এবং PRB ১৯৪৩ কি বলে?

PRB বা পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল ১৯৪৩ এর ৮৫৮ বিধি থেকে ৯০০ বিধি পর্যন্ত স্পষ্ট বলা আছে, একজন কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত প্রত্যেকের পদোন্নতি হবে তার মেধা, জ্যেষ্ঠতা এবং সততার ভিত্তিতে।কিন্তু আজ অভিযোগ উঠেছে, অনেক যোগ্য অফিসার যারা ওসি এবং এসপি পদমর্যাদার যোগ্য, তারা দীর্ঘ চাকরি করেও সেই পদমর্যাদা পাচ্ছেন না। অনেককে অবসরে পাঠানো হচ্ছে। যদি এটা সত্য হয়, তাহলে এটা PRB ১৯৪৩ এর ৮৬৬ (গ) বিধির সরাসরি লঙ্ঘন। কারণ সেখানে বলা আছে, কোনো অফিসারকে তার প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত – বাংলাদেশ সংবিধান কি বলে?

সংবিধানের ২৯ (১) অনুচ্ছেদ বলছে – প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ ও পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। আর ১৩৫ (২) অনুচ্ছেদ বলছে – কোনো সরকারি কর্মচারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে না। তাহলে একজন পুলিশ সদস্য ২৫-৩০ বছর চাকরি করার পর, তার শেষ সময়ে যদি পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে তার পরিবারের কি হবে? তার পেনশন, তার সম্মান – সবকিছুই তো সেই পদমর্যাদার উপর নির্ভর করে। ৩০ বছর পর খালি হাতে অবসর সন্তান বলতে পারবে না আমার বাবা এএসপি ছিল পুলিশের কান্না কে শুনবে ২ পুলিশ জনগণের বন্ধু পুলিশের বন্ধু কে ওসি থেকে এএসপি হওয়ার স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে কারা

তৃতীয়ত – আন্তর্জাতিক পুলিশ আইন কি বলে?

জাতিসংঘের Code of Conduct for Law Enforcement Officials – ১৯৭৯ এর ৮ নম্বর ধারা এবং International Labour Organization (ILO) এর Convention স্পষ্ট বলছে – প্রত্যেক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ন্যায্য বেতন, ভাতা, TA/DA এবং পদোন্নতির অধিকার আছে। আজ অভিযোগ আছে, ২০২৩ সালের অনেক পুলিশ সদস্যের TA/DA বিল এখনো বকেয়া। একজন পুলিশ সদস্য যদি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সরকারি ডিউটি করেন, আর ৩ বছরেও সেই টাকা না পান, তাহলে তার মনোবল কোথায় থাকবে?

আমি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, আমি সিস্টেমের পক্ষে। আমি আইজিপি মহোদয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো –

আপনারা একটু দেখুন, PRB ১৯৪৩ অনুযায়ী সকল যোগ্য পুলিশ সদস্যের পদোন্নতির ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করুন। ২০২৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যত TA/DA বকেয়া আছে, সেগুলো দ্রুত পরিশোধ করুন। কারণ পুলিশ হাসলে, বাংলাদেশ হাসবে। পুলিশ ভালো থাকলে, ১৮ কোটি মানুষ নিরাপদে ঘুমাবে। আমি পুলিশের কোনো বড় কর্মকর্তা ছিলাম না, তবে আমি সংবিধান জানি পুলিশের পক্ষে কথা বললাম।

পুলিশ আমার ভাই, পুলিশ আমার বন্ধু।”

তথ্যসূত্র: পুলিশ আইন ১৮৬১, PRB ১৯৪৩, সংবিধান ২৯ ও ১৩৫ অনুচ্ছেদ, জাতিসংঘ কোড ১৯৭৯।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram