![]()
“বাংলাদেশের সংবিধান। অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয় পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের চোখে সবাই সমান।
কিন্তু আজ আমরা প্রমাণসহ বলছি: টাকা থাকলে বিচার ১ মাসে। টাকা না থাকলে বিচার ২ প্রজন্মে।
১. আদালতের খেলা: ১ মাস না ১৫/২০ বছর? কিছু মামলায় আবার ২৫/৩০ বছর ও লাগে
আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে। ৫০% এর বেশি সিভিল মামলায় দেখা যায়: টাকা দিলে ১ মাসের মাথায় ডেট। ফাইল উপরে। টাকা না দিলে ৫ মাস, ৬ মাস, ১ বছর পর ডেট। ফাইল তলায়।
একই বিচারক। একই পেসকার। তাহলে এই বৈষম্য কেন? এর নাম কি বিচার? নাকি টাকার নিলাম?
২. একটা মামলা = একটা পরিবারের গণকবর
দাদা মামলা করলেন ১৯৯৮ সালে। জমি বাঁচানোর জন্য। জজ বদলি ৭ বার। পেসকার বদলি ৯ বার। উকিল মারা গেলেন। দাদা কবরে। বাবা দৌড়াতে দৌড়াতে প্যারালাইসড। এখন নাতি ফাইল হাতে নিয়ে কাঁদে। “আমার জমি কই?”
২৮ বছর! এখনো রায় নাই। এটা বিচার না। এটা প্রজন্ম হত্যা।
৩. সবচেয়ে বড় ক্যান্সার: তদন্তের নামে প্রহসন:
ভাই, শুধু আদালত না। মামলা হওয়ার পর যায় থানায়। যায় ডিবিতে। যায় পিবিআইতে। আর সেখানেই শুরু হয় আসল খেলা। তদন্তের নামে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ফাইল আটকে থাকে।
কারণ কি? কারণ বড়লোকের কাছে তাদের বিবেক বিক্রি হয়ে যায়। গরীব ১০ বার থানায় দৌড়ায়। অফিসার বলে “তদন্ত চলছে”। কিন্তু ফাইল নড়ে না। কারণ অপর পক্ষ থেকে “খাম” আসছে। দিনশেষে গরীব তার কাছে কোন সুবিচার পায় না। কোর্ট বলে “তদন্ত রিপোর্ট কই?” পুলিশ বলে “সময় লাগবে”। আর এর মাঝে জমি দখল হয়ে যায়। সাক্ষী মারা যায়। প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। এটা কি তদন্ত? নাকি সুবিচারকে গলা টিপে হত্যা?
৪. বিশ্ব লিডার ও আন্তর্জাতিক আইন কি বলে?
উইনস্টন চার্চিল:
“Justice delayed is justice denied” “ন্যায়বিচারে দেরি মানেই ন্যায়বিচারকে হত্যা করা।”
আমরা ২৮ বছর ধরে হত্যা দেখছি।
মহাত্মা গান্ধী:
“An unjust law is itself a species of violence””অন্যায় দেরি নিজেই একটা সহিংসতা।”
নেলসন ম্যান্ডেলা:
_”To be free is to respect and enhance the freedom of others”_অন্যদের স্বাধীনতাকে সম্মান করে বাঁচার নামই স্বাধীনতা।”
আমাদের জমির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
UDHR – Universal Declaration of Human Rights
“সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র” গৃহীত: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ সালে- জাতিসংঘ
অনুচ্ছেদ ৮:“Everyone has the right to an effective remedy by the competent national tribunals”_
অর্থ:“যোগ্য জাতীয় আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেকের কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার অধিকার আছে।” ৭৮ বছর আগের আইন। আজও আমরা “প্রতিকার” পাই না।
অনুচ্ছেদ ১৭:“Everyone has the right to own property alone as well as in association with others”“এককভাবে অথবা অন্যদের সাথে মিলে সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকার প্রত্যেকের আছে।” দেরির কারণে সেই সম্পত্তি লুট হচ্ছে।
ICCPR – International Covenant on Civil and Political Rights
“নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি” গৃহীত: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ সাল। কার্যকর: ২৩ মার্চ, ১৯৭৬ সাল। বাংলাদেশ অনুসমর্থন করে: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০০০ সালে।
অনুচ্ছেদ ১৪(৩)(গ): “To be tried without undue delay”_
অর্থাৎ “অযৌক্তিক বিলম্ব ছাড়া বিচার পাওয়ার অধিকার।” ৫০ বছর আগের আন্তর্জাতিক চুক্তি। ২৬ বছর আগে বাংলাদেশ সই করেছে। তবু ৫ মাস পর ডেট কেন?
৫. ১৮ কোটি মানুষের ৫টি প্রশ্ন:
বিচার বিভাগের কাছে: আপনি চাইলে ১ মাসে ডেট দিতে পারেন। কেন ৬ মাস দেন? আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে: ১৮০ দিনের মধ্যে জমি মামলা শেষ আইন কবে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের কাছে: তদন্ত রিপোর্ট ৬০ দিনের মধ্যে বাধ্যতামূলক হবে না কেন? দেরি করলে শাস্তি কই? দুদকের কাছে: আদালত পাড়া + থানার দালালদের আয়ের উৎস কি?
রাষ্ট্রের কাছে: ১৯৪৮ + ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক আইন থাকার পরেও গরীব মানুষ বিচার না পেয়ে মরলে তার দায় কে নিবে?
এটা শুধু জমির কাগজ না। এটা একটা বাপের শেষ ইচ্ছা। এটা একটা বিধবা মায়ের একমাত্র ভরসা। এটা একটা এতিমের স্কুলের খরচ।
আজ রাতে যখন আপনি ঘুমাবেন, ভেবে দেখেন – ঐ পাশের বাড়ির লোকটা ১০ বছর ধরে ঘুমায় না। কারণ তার ফাইলের “ডেট” নাই। তার তদন্তের “রিপোর্ট” নাই।
জাগো বাংলাদেশ। সংবিধান বাঁচাও। বিচার বাঁচাও। পুলিশকে মানুষ বানাও। মানুষ বাঁচাও। বীর চট্টলা টিভি – প্রমাণ আমাদের কাছে। ভয় নাই। আমরা ১৮ কোটি মানুষের কন্ঠ।