
১৫ আগস্ট জাহাজ থেকে নামলো। ২ আগস্ট কাস্টমস ক্লিয়ার হলো। ৩০ আগস্ট ডেলিভারি নিতে গেলো – কন্টেইনার নাই! মূল্য ৩ কোটি টাকা। ৬৬৮ বেল কাপড়।
প্রশ্ন: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার চুরি হয় কিভাবে? চুরি হয় না, “গায়েব” করা হয়?
ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে। কন্টেইনার নম্বর: MRSU-8692827। জাহাজ: MV MCC DANANG। আমদানিকারক: সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টস। C&F: এসআরএস সিন্ডিকেট।
১৫ আগস্ট জাহাজ থেকে নামে। ২ আগস্ট বিল অফ এন্ট্রি। সব ট্যাক্স-ভ্যাট পরিশোধের পর ৩০ আগস্ট সিসিটি ইয়ার্ডে গিয়ে দেখে কন্টেইনার নাই। ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্দরের সব জায়গা খুঁজেও পাওয়া যায়নি। ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ।
বন্ধু, সংবিধান ৪৮(৩) কি বলে? “রাষ্ট্রের সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব”। চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রের সম্পত্তি। বছরে ৩২ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডেল করে।
তাহলে প্রশ্ন ৪টা:
১. নিরাপত্তা কোথায়? বন্দরে আর্মি, নেভি, আনসার, পুলিশ, স্ক্যানার, RFID, CCTV আছে।
২. কাস্টমস কি করলো? বিল অফ এন্ট্রি হওয়ার পর কন্টেইনার কার কাস্টডিতে ছিল?
৩. ডেলিভারি সিস্টেম ফাঁকা নাকি? টাকা জমা দেওয়ার পরেও মাল পাওয়া যায় না?
৪. ভিতরের হাত? এত বড় ৪০ ফুট কন্টেইনার বন্দর থেকে বের হবে, আর কেউ টের পাবে না?
আমদানিকারক বলছেন – এটা রফতানিমুখী কাঁচামাল। সময়মতো না পেলে বিদেশি বায়ারকে পণ্য দিতে পারবে না, বড় লস। ভালো খবর হলো বন্দর কর্তৃপক্ষ চিঠি পেয়েছে। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হাসিম বলেছেন “তদন্ত চলমান”। টার্মিনাল ম্যানেজার, এটিও, টিও কে অবহিত করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো তদন্ত কেন? কন্টেইনারের প্রতিটা মুভমেন্ট তো কম্পিউটারে থাকার কথা। “গায়েব” শব্দটা আসে কিভাবে?
তাই “বীর চট্টলা টিভি”১৮ কোটি জনগণের কন্ঠে ৩ দফা দাবি জানায়:
দফা ১: এই ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। বন্দর + কাস্টমস + নৌ পুলিশ + NBR সবাইকে নিয়ে।
দফা ২: গত ৫ বছরে কত কন্টেইনার “গায়েব” হয়েছে তার শ্বেতপত্র।
দফা ৩: দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯ ধারা – সরকারি কর্মচারীর বিশ্বাসভঙ্গ। সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখান থেকে ৩ কোটি টাকার মাল গায়েব হলে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে কিভাবে? এটা শুধু কন্টেইনার চুরি না। এটা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চুরি। আমরা জবাব চাই। বন্দর নিরাপদ চাই।বীর চট্টলা টিভি ১৮ কোটি মানুষের কন্ঠ