
রাষ্ট্র যখন ভক্ষক! গুমের অভিযোগে তদন্তাধীন কর্মকর্তা – কবে থামবে বিচারবহির্ভূত হত্যা? যেন আর কোনো জিয়াউল ‘আহসান’ তৈরি না হয়! মানবতাবিরোধী অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই?
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ বলে “আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন হইতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না”। অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) বলে “নির্যাতন নিষিদ্ধ”। তাহলে গত ১৫ বছরে শত শত মা কেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদে? “আমার ছেলে কোথায়?স্ত্রী বলে আমার স্বামী কোথায় ছেলে বলে আমার বাবা কোথায়? আজ আমরা কথা বলব রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সবচেয়ে ভয়ংকর অপব্যবহার নিয়ে।
আইন কি বলে? – “গুণ বহীব্রতা হত্যা” মানে বিচারবহির্ভূত হত্যা।
বাংলাদেশের আইনে একে বলে “Extrajudicial Killing” বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।
কি বলে আইন?
1. দন্ডবিধি ৩০২ ধারা: হত্যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
2. দন্ডবিধি ১২০(খ): ষড়যন্ত্র করে হত্যা।
3. মানবতাবিরোধী অপরাধ আইন ১৯৭৩: পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা, গুম করলে মৃত্যুদণ্ড।
4. UN Convention Against Torture: বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে সই করেছে। গুম = মানবতাবিরোধী অপরাধ।
5. পুলিশ প্রবিধান PRB ২৭০: পুলিশ সদস্য আইন বহির্ভূত কাজ করলে বিভাগীয় ফৌজদারি মামলা।
আইন আছে। শুধু প্রয়োগ নাই।
অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রের একটি বাহিনীর সাবেক প্রধান জিয়াউল আহসান এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ: ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী মত দমন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা। ২০২৪ এর পর এই অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন।
প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ এত ক্ষমতা পেলো কিভাবে? কারা সহযোগিতা করলো? সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১(২) বলে “সকল সময়ে জনগণের সেবা করিতে হইবে”। মন্ত্রী হোক আর প্রধানমন্ত্রী হোক, সবাই জনগণের সেবক।
তাই আমাদের দাবি:
১. উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন।
২. গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৪ দ্রুত বাস্তবায়ন।
৩. যারা নির্দেশ দিয়েছে, যারা সহযোগিতা করেছে – তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও বিচার।
৪. ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জিয়াউল”আহসান” তৈরি না হয় – সেজন্য পুলিশের জবাবদিহিতা আইন চাই।
আমরা প্রতিশোধ চাই না ভাই। আমরা বিচার চাই। কারণ আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল তোমার ভাই, আমার ভাই গুম হবে। চোখের পানি ফেলবেন না। কলম ধরুন। শেয়ার করুন। কমেন্টে লিখুন “আর কোনো গুম না”
এই বাংলার মাটিতে যেন আর কোনো মা সন্তান হারানোর কান্না না করে। বীর চট্টলা টিভি – সত্যের পক্ষে, সংবিধানের পক্ষে।