
“শিশুর বুকের দুধে বিষ! BSTI অনুমোদনহীন পাউডার + মেয়াদ পরিবর্তন করে বিক্রি – ৪ লাখ ৫০ হাজার জরিমানা” ডাক্তার বলছে ডায়রিয়া-বমি-অপুষ্টি! কারণ একটাই – ভেজাল শিশুখাদ্য”*
“শিশু খাদ্যে ভেজাল – জাতির সাথে বেইমানি”
এই দেখেন – এক গ্লাস দুধ। এক বাটি পাউডার। আর এই পাশে – একটা অবুঝ শিশু বোতল মুখে দিচ্ছে। কিন্তু এই পাউডারের ভিতর কি আছে জানেন?
মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য। পোকা। BSTI অনুমোদনহীন লোগো। আর মৃত্যু ঝুঁকি। গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে “চিটাগং ডেইরি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ” এ অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। প্রশ্ন একটাই – টাকা দিলেই কি শিশুর জীবনের দাম শেষ?
কি ধরেছে ভোক্তা অধিকার?
১. “ডোনা ইনস্ট্যান্ট ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার” – BSTI এর অনুমোদন নাই। অথচ লোগো লাগানো। ২. মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধের তারিখ পরিবর্তন করে নতুন মেয়াদ বসিয়ে বিক্রি। ৩. উৎপাদন পরিবেশ – অস্বাস্থ্যকর, পোকামাকড়ের উপস্থিতি।
এটা শুধু ব্যবসা না? এটা সংবিধান বিরোধী কাজ। সংবিধান অনুচ্ছেদ ৩২: “আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন হইতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না”। সংবিধান অনুচ্ছেদ ১৫: “জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন” রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ধারা ৪৩ ও ৫৩* অনুযায়ী – মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি = সর্বোচ্চ ১ বছর জেল + ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। BSTI আইন ২০১৮ অনুযায়ী – নকল লোগো ব্যবহার = ৫ বছর জেল।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা জামিল বলেছেন – “শিশুদের ক্ষেত্রে খাদ্যজনিত সংক্রমণ হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দূষিত খাবারে পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর, অপুষ্টি। বার হলে ওজন কমে যায়, ব্রেইনের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।”
আরেক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অমিত চৌধুরী বলেন – “মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য শিশুকে খাওয়ানো উচিত না। শুধু মেয়াদ দেখলেই হবে না, কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে সেটাও জরুরি।”
ভুক্তভোগী মা নাসরিন জাহান বলেন – “আমরা দোকানে গিয়ে ব্র্যান্ড আর মেয়াদ দেখে কিনি। কিন্তু পণ্য আসলেই নিরাপদ কিনা সেটা যাচাই করার সুযোগ আমাদের নেই।”
ভোক্তা অধিকারের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেছেন – “শিশুর খাদ্যপণ্যে মেয়াদ পরিবর্তন, ভেজাল এবং অনুমোদন ছাড়া লোগো ব্যবহার গুরুতর অপরাধ।”
ক্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি নাজের হোসাইন বলেছেন – “শিশুখাদ্যে ভেজাল মানে একটা পরিবারকে ধীরে ধীরে পঙ্গু করা। রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনতা ও আইনের ফাঁকফোকরে অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।”
বীর চট্টলা টিভির ৪ দফা দাবি – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে: ১. BSTI এর ফোর্স বাড়ান। প্রতি মাসে বাজার অভিযান বাধ্যতামূলক।
২. ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ সংশোধন। শিশু খাদ্যে ভেজাল = অ-জামিনযোগ্য অপরাধ।
৩. সাপ্লাই চেইন তদারকি। ফ্যাক্টরি থেকে ফার্মেসি – প্রতিটি ধাপে মনিটরিং।
৪. জনসচেতনতা। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে QR কোড। স্ক্যান করলেই BSTI এর আসল তথ্য
মাননীয় ব্যবসায়ী ভাইয়েরা, ব্যবসা করেন। কিন্তু শিশুর জীবন নিয়ে না। ১ টাকা লাভের জন্য ১৮ কোটি মায়ের অভিশাপ নিয়েন না।
মাননীয় প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহান ইসলাম বলেছেন – “শিশুখাদ্যের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো ধরনের আপোষের সুযোগ নেই”। তাহলে আপোষ কেন?
বাংলাদেশের মা-বাবা, আপনার সন্তানের খাবার কেনার আগে ৩টা জিনিস দেখুন:
১. BSTI লোগো আসল কিনা ২. মেয়াদ ৩. উৎপাদন তারিখ।
আপনি কি চান শিশু খাদ্যে ১০% নিরাপত্তা? ট্যাগ কর @BSTI @DNCRP @MinistryofCommerce
বীর চট্টলা টিভি – ১৮ কোটি মানুষের কণ্ঠ। শিশুর পক্ষে, সত্যের পক্ষে।
এস. এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট
চেয়ারম্যান (বীর চট্টলা টিভি)