![]()
সংবিধান কি মরে গেছে? ছোট চোরের পিঠে ইট, বড় চোরের মাথায় মুকুট – এই কি আমার বাংলাদেশ? “দৃশ্যটি দেখুন। ভালো করে দেখুন। একজন মানুষকে খুঁটির সাথে বেঁধে, তার কাঁধে ইটের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখে গোঁজা হয়েছে কিছু। চারপাশে উল্লাস করছে জনতা।
এটি কোনো মধ্যযুগের ছবি নয়। এটি ২০২৬ সালের বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ছবি। অভিযোগ কি? – মাত্র ২ সেকেন্ডের জন্য মুষ্টির আপে মারা! আমি বীর চট্টলা টিভির চেয়ারম্যান এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট প্রশ্ন করছি – এই বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? যেখানে আইন আছে, আদালত আছে, সংবিধান আছে, সেখানে একজন মানুষকে এভাবে পশুর মতো শাস্তি দেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে?”
সংবিধান ও আইন,
“আসুন এবার সংবিধান কি বলে শুনি। বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ বলছে – আইনের আশ্রয় লাভ করা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। অনুচ্ছেদ ৩২ বলছে – আইন অনুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আর সবচেয়ে বড় কথা, অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) – স্পষ্ট বলছে, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাবে না, কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দন্ড দেওয়া যাবে না। এই ছবিটা কি নিষ্ঠুর, অমানুষিক নয়? তাহলে সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে।
এবার আন্তর্জাতিক আইন কি বলে?
জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ৫ নং ধারা বলছে – No one shall be subjected to torture or to cruel, inhuman or degrading treatment. আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR) International covenant on civil political rights এর ৭ নং ধারা একই কথা বলে। বাংলাদেশ সেই সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। অর্থাৎ এই নির্যাতন শুধু বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী নয়, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ।”
“এবার বীর চট্টলা টিভি র সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যে প্রশ্ন ১৮ কোটি মানুষের। ধরলাম লোকটি চুরি করেছে। তার বিচার হবে। কিন্তু যারা এই দেশের বড় চোর, তাদের কি হবে? যারা সরকারি চাকরির নামে, কোম্পানির নামে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে, সিন্ডিকেটের নামে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লুট করে জনগণের গলা কাটছে, তাদের কাঁধে কে ইট তুলে দেবে? ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে যারা কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দুর্নীতি করেছে, তাদের কি আমরা নিজ হাতে শাস্তি দিয়েছি?
একজন গরীব মানুষ ৫০০ টাকা চুরি করলে তার পিঠে ইট, আর একজন শিক্ষিত চোর কলমের খোঁচায় ৫০০ কোটি টাকা চুরি করলে তার জন্য এসি রুম আর বিদেশে বাড়ি – এই বৈষম্য কি সংবিধান সমর্থন করে? সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ বলছে – সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। তাহলে আইন কি শুধু গরীবের জন্য?”
“আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমি প্রশাসনের কাছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি – এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যারা এই নির্মমতার সাথে জড়িত, তাদেরকে প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হোক।
মনে রাখবেন – অপরাধের বিচার হবে আইনের মাধ্যমে, জনতার হাতে নয়। আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল এই ইট আপনার, আমার কাঁধেও উঠতে পারে। এই ছিল বীর চট্টলা টিভির আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।বীর চট্টলা টিভি ১৮ কোটি মানুষের কণ্ঠ,?