২০৫০: বাংলাদেশে সামান্য কাটায় মৃত্যু! এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সে ধ্বংসের কাউন্টডাউন শুরু।

“২০৫০: বাংলাদেশে সামান্য কাটায় মৃত্যু! এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সে ধ্বংসের কাউন্টডাউন শুরু”
ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সতর্কবাণী:
“ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মেডিসিন ছাড়াই মারা যাবে। কারন তাদের শরীরে আর কোন মেডিসিন কাজ করবে না। সব resistance হয়ে যাচ্ছে” – ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, মহাসচিব, বাংলাদেশ ডক্টরস এসোসিয়েশন- ড্যাব।

চট্টগ্রাম: দেশের প্রতিটি গলির ফার্মেসিতে এখন একটাই সংলাপ – “ভাই ৩ দিনের পাওয়ারফুল এন্টিবায়োটিক দেন”। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন? লাগে না। অথচ এই একটা ভুলের কারনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO বলছে ২০৫০ সালে পৃথিবীতে প্রতি বছর ১ কোটি মানুষ মারা যাবে। আর বাংলাদেশ থাকবে ঝুঁকির শীর্ষে। বীর চট্টলা টিভির ১০ দিনের তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য।

ইতিহাস কি বলে?
১৯২৮ সালে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করে মানবজাতিকে বাঁচিয়েছিলেন। ১৯৪৫ সালে তিনিই সতর্ক করেছিলেন – “অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া একদিন আমাদের হারিয়ে দিবে”। ২০২৫ সালে এসে আমরা সেই দিনের মুখোমুখি।

বিশ্বের শীর্ষ ডাক্তাররা কি বলছেন?
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, “AMR is the next pandemic”। নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী স্যার জেমস ওয়াটসন বলেছেন, “We are returning to the pre-antibiotic era”। অর্থ: এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগের যুগে ফিরে যাচ্ছি।

বিজ্ঞান কি বলে? রন্ধে রন্ধে
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে AMR = Antimicrobial Resistance। সহজে বললে: আপনি জ্বরের জন্য ৩ দিন এন্টিবায়োটিক খেলেন। ১০০টা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ৯৯টা মরলো। ১টা চালাক ব্যাকটেরিয়া বেঁচে গিয়ে ১০০০টা “সুপার ব্যাকটেরিয়া”র জন্ম দিল। পরেরবার আর ঐ ঔষধ কাজ করবে না।

বাংলাদেশের অবস্থা কতটা ভয়াবহ?
ICDDRB = International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh এর গবেষণা বলছে:
1. দেশে ৭০% মানুষ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক কেনে
2. ৯০% মানুষ কোর্স শেষ করে না
3. টাইফয়েড, নিউমোনিয়ার ৪০% কেসে এখন সাধারণ এন্টিবায়োটিক কাজ করে না

তাহলে কি সব মেডিসিন অকেজো হবে?
না। ডায়াবেটিস, প্রেশার, হার্টের ঔষধ কাজ করবে। কিন্তু সংক্রমণের ঔষধ কাজ করবে না। তখন কি হবে? সিজারের পর মা মারা যাবে। অপারেশনের পর ইনফেকশনে রোগী মারা যাবে। ক্যান্সার রোগীকে কেমো দেওয়া যাবে না।

কার দায়িত্ব?
সরকার: প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রিতে যাবজ্জীবন আইন চাই। ডাক্তার: রোগীর চাপে ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক না। জনগণ: “১টা এন্টিবায়োটিক দেন” – এই কথা বলা মানে নিজের সন্তানের কবর খোড়া। ডা. শাকিল আতঙ্ক ছড়াননি। আয়না দেখিয়েছেন। এখনই সচেতন না হলে আমাদের সন্তানরা হাসপাতালে গিয়ে শুনবে – “সরি, এই রোগের আর কোন ঔষধ নাই”। সময় আছে। সিদ্ধান্ত আপনার সমস্ত তথ্য নিয়ে বীর চট্টলা টিভি দেশ ও জনগণের কন্ঠ

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram