
সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে অন্তত সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য ও রায়ের কপি চেয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে কারাগারে থাকা নাগরিকদের তালিকা পাঠায়। বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত হয়ে বাংলাদেশের নাগরিকেরা সেখানে কারাবন্দি রয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবের কারাগারগুলোতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন।
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি বাংলাদেশ।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায়। তবে সাজা কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও রায়ের অনুলিপি চেয়ে চিঠি পাঠায়।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রায়ের কপি চেয়ে সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রায়ের অনুলিপি পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাজা কার্যকর করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ এ ঘটনার বিস্তারিত জানতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার সময়কাল উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার হয়েছে প্রায় দেড় বছর। বিএনপি সরকার গঠন করেছে মাত্র ছয় মাস আগে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, প্রবাসীদের যেকোনো সেবা বা সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সেবা প্রদানে কোনো অবহেলা বা ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।