বাংলাদেশে ‘র’ : গোপন ইতিহাস – ভূমিকায় DGFI প্রধান! ১৮ কোটি মানুষের গোপনীয়তা কে বিক্রি করছে?

“আমার হাতে যে বইটা দেখছেন, এটা কোনো সাধারণ বই না। বইটার নাম – ‘বাংলাদেশে ‘র’ গোপন ইতিহাস, RAW, গোপনচরবৃত্তি ও বাংলাদেশের রাজনীতির অজানা অধ্যায়’। লেখক – নির্ভীক সাংবাদিক ও সাবেক সেনা অফিসার আবু রুশদ। আর এই বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন কে জানেন? বাংলাদেশের গোয়েন্দা ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি – সাবেক DGFI প্রধান, মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন, বীর প্রতীক। যে DGFI বাংলাদেশের নিরাপত্তা দেয়, সেই DGFI-এর সাবেক প্রধান যখন একটি বইয়ের ভূমিকা লেখেন – তখন বুঝতে হবে এই বইয়ে এমন কিছু আছে যা ১৮ কোটি মানুষের জানা দরকার।”

“আসেন ইতিহাসে যাই:

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ – Research and Analysis Wing – প্রতিষ্ঠিত হয় ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ সালে, ইন্দিরা গান্ধীর আমলে, আর এন কাও-এর হাতে। আর আমাদের DGFI? প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে DFI নামে, পরে ১৯৭৭ সালে DGFI হয়। এই বইটিতে লেখক আবু রুশদ তথ্য-প্রমাণ, নথি ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেখিয়েছেন কিভাবে একটি বিদেশি সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ভেতরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, মিডিয়া কন্ট্রোল, এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে।

এই বইতে দুটো জিনিস আছে –
১. ‘বাংলাদেশে র’ – আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘র’-এর ভূমিকা।
২. ‘ইনসাইড র’ – ‘র’-এর জন্ম, অপারেশনাল কৌশল ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব।

প্রশ্ন হলো – শ্যাডো এজেন্ট কিভাবে কাজ করে? সরাসরি অস্ত্র নিয়ে না। তারা কাজ করে ৩ ভাবে – তথ্য কেনা, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের লোক বসানো, এবং দেশের ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরি করা।” “এবার আসেন বাংলাদেশের আইন কি বলে? এটা জানা দরকার বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৩ অনুযায়ী – রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ভঙ্গ করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।

The Official Secrets Act, 1923 এর ধারা ৩ ও ৫ অনুযায়ী – যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা, সে সামরিক হোক বা বেসামরিক, দেশের গোপন তথ্য কোনো বিদেশি শক্তির কাছে বিক্রি করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছর জেল এবং মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। DGFI Act এবং Army Act অনুযায়ী – আমাদের গোয়েন্দা অফিসারদের কাজ হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। যদি কেউ এর উল্টোটা করে, তাকে কোর্ট মার্শালে বিচার করা হবে।

তাহলে সমাধান কি? সমাধান একটাই – ভালো অফিসারদের পাশে দাঁড়ানো। বাংলাদেশে হাজার হাজার ভালো, দেশপ্রেমিক অফিসার আছেন DGFI, NSI, DB, পুলিশে – যারা দিনরাত দেশ পাহারা দিচ্ছেন। তাদেরকে আমাদের স্যালুট দিতে হবে। আর যারা গোপনীয়তা বিক্রি করতে চায়, তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।”

“আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। আমি আজ এই নিউজের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী সেনাপ্রধান, এবং DGFI প্রধানকে ৩টি প্রস্তাব দিতে চাই ১৮ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে –

১. অবিলম্বে একটি ‘জাতীয় গোপনীয়তা সুরক্ষা কমিশন’ গঠন করা হোক – যেখানে ভালো অফিসাররা থাকবে।

২. এই বই ‘বাংলাদেশে র’-তে যে তথ্য-প্রমাণ আছে, সেগুলো NSI ও DGFI দিয়ে যাচাই করা হোক – যদি সত্য হয়, ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যদি মিথ্যা হয়, জনগণকে জানানো হোক।

৩. সাংবাদিকদের জন্য ‘National Security Reporting Guideline’ করা হোক – যাতে আমরা দেশের ক্ষতি না করে, দেশের পক্ষে রিপোর্ট করতে পারি।

আমি কারো বিরুদ্ধে না, আমি বাংলাদেশের পক্ষে। আমি রয়ের এজেন্টের বিরুদ্ধে না, আমি বাংলাদেশ বিক্রির বিরুদ্ধে। যারা বাংলাদেশের গোপনীয়তা ভারতের কাছে, বা অন্য কোনো দেশের কাছে বিক্রি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হতেই হবে। কারণ – সাংবাদিক বাঁচলে, গোয়েন্দা বাঁচবে। গোয়েন্দা বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এই বইটি আপনারা পড়ুন, জানুন, এবং সচেতন হোন। আমি বাংলাদেশ সরকারের ভালো অফিসারদের বন্ধু হতে চাই, শত্রু না।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram