
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক এলাকা) ঘিরে রাজনৈতিক ও স্থানীয় মহলে আলোচনা থামছে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েও সংসদ সদস্য হতে পারেননি বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। নির্বাচনের প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও আসনটিতে এখনো কোনো সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন আসলাম চৌধুরী। তবে ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় তাঁর নির্বাচনের ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তীতে গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেন। ফলে ওই নির্বাচনের ভিত্তিতে আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এখন কী হবে সীতাকুণ্ড আসনের?
আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের পর চট্টগ্রাম-৪ আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করা হবে—তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে আসনটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং নতুন জনপ্রতিনিধি পাওয়ার বিষয়টি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
উন্নয়ন ও জনসেবা নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীতাকুণ্ডের মতো জনবহুল ও শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য না থাকায় উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং সংসদে স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে।
তাদের প্রত্যাশা, আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আসনটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এতে সীতাকুণ্ডবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে এবং সংসদে এলাকার মানুষের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে এখন বড় প্রশ্ন—চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? কবে সীতাকুণ্ডবাসী পাবেন তাঁদের সংসদীয় প্রতিনিধি? সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটাররা।