![]()
“বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে – জুলাই সনদের কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি নাই? এই প্রশ্ন আমার না, এই প্রশ্ন তুলেছেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ৩১ অক্টোবর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি পরিষ্কার বলেছেন –
‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই সনদ-এর সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে সনদটি ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতা আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তাহলে প্রশ্ন – যদি আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে আজকের সরকার কীভাবে বৈধ? যদি জুলাই যুদ্ধ না হতো, আজকের গণতন্ত্র কীভাবে ফিরতো?”
“আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক। আজ আমি কোনো দলের পক্ষে না, আমি ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। একটু পেছনে যাই। জুলাই যুদ্ধ না হলে কী হতো? জুলাই যুদ্ধ না হলে আজকের অন্তর্বর্তী সরকার থাকতো না। জুলাই যুদ্ধ না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ আসতো না। আজকের জনগণের ভেলোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার হত না। আপনি চিন্তা করুন – জুলাই হয়েছে বলেই আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের শিলং থেকে বাংলাদেশে আসতে পেরেছেন। না হলে তিনিও আসতে পারতেন না।
জুলাই হয়েছে বলেই তারেক রহমান লন্ডন থেকে ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আজ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। না হলে লন্ডনেই থাকতে হতো। জুলাই হয়েছে বলেই আজ গণতন্ত্রের মা আপোষহীন নেত্রী তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার পরও তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তার কবর হয়েছে তাকে রাতের আঁধারে বাবুর মতো পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এটাই ছিল দেশের পরিস্থিতি।
তাহলে যে জুলাই বাংলাদেশকে বাঁচালো, সেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকবে না কেন?” সংবিধান কী বলে? “এবার আসি সংবিধানে। মন্ত্রী বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল, আদালত বলেছে – ‘এটি একটি রাজনৈতিক বিষয়, আপনারাই রাজনৈতিকভাবে এর সমাধান করুন।’ এটাই তো সংবিধানের সবচেয়ে বড় সত্য।
১. বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ – সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য না।
২. অনুচ্ছেদ ১৪২ – সংবিধান সংশোধন করা যায়। সংযোজন-বিয়োজন করা যায়। সংবিধান কোনো আসমানি কিতাব না যে পরিবর্তন করা যাবে না। জনগণের স্বার্থে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করা যায়।
৩. অনুচ্ছেদ ১৫০(২) এবং গণভোট আইন – ২০২৬ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে মানুষ গণভোট এবং হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে ব্যালটে সিল মেরেছে। এই গণভোটই তো জুলাই সনদের সবচেয়ে বড় আইনি ভিত্তি।
আপনি যখন জনগণের কাছে যাবেন, জনগণ যদি হ্যাঁ বলে, সেটাই তো আইন। এর চেয়ে বড় আইনি ভিত্তি আর কী হতে পারে? তাই মন্ত্রীর কথার প্রথম অংশ সত্য – সরাসরি আইনি ভিত্তি নেই। কিন্তু দ্বিতীয় অংশই সমাধান – রাজনৈতিক সমঝোতাই আইনি ভিত্তির চেয়েও বড়।” “তাহলে একমাত্র সলিউশন কী?
সলিউশন এক: জুলাই সনদকে রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে স্বীকার করে, পরবর্তী জাতীয় সংসদে অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী সংবিধানে সন্নিবেশিত করতে হবে। তাহলে এটি সাংবিধানিক বৈধতা পাবে।
সলিউশন দুই: সুপ্রিম কোর্ট নিজেই বলেছে এটি রাজনৈতিক বিষয়। তাই রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি না করে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন – যেটা মন্ত্রী নিজেই বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সলিউশন তিন: বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা – যেটা মন্ত্রী বলেছেন। সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী দেশ ও জনগণ। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
আর যেন কোনো জুলাই জাদুঘর না হয়, সেজন্য চাই রাজনৈতিক ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা। ভবিষ্যতে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করতে হবে। এই জন্য রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আজ জুলাই আছে বলেই গণতন্ত্র ফিরেছে। জুলাইকে অস্বীকার করা মানে নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি।”