“ভবন ঝুঁকিপূর্ণ! চট্টগ্রামে বন্ধ হচ্ছে দেশের প্রথম ডেনিম সাম্রাজ্য প্যাসিফিক জিন্স – ৫০৯ জনকে বিদায়, ৫ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে! কী বলছে শ্রম আইন?

“হাতে একটা চাকরির সার্টিফিকেট, চোখে জল – আর মুখে একটাই শব্দ – বিদায় প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড! ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু, ১৯৯৪ সালে শিল্পপতি এম নাসির উদ্দিনের হাতে গড়া দেশের প্রথম ডেনিম কারখানা – প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড – আজ বন্ধের পথে। “কেন বন্ধ হচ্ছে? গুজব নয়, আসল কারণ শুনুন।

কারণ ১: ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। কোম্পানি জানিয়েছে, পুরনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বুয়েট এবং চুয়েটের বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে বলেছেন – ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কতজন শ্রমিক? এই একটি কারখানাতেই কাজ করতেন প্রায় ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক। বিজিএমইএ বলছে সাড়ে ৫ হাজার।  এখন কী হচ্ছে?
– ৩ নভেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন চলবে, তারপর বন্ধ।
– ইতিমধ্যে ৫০৯ জন শ্রমিককে বিদায় দেওয়া হয়েছে।
– তাদের পাওনা পরিশোধের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর।
– কোম্পানি বলছে, বাকি শ্রমিকদের একটি বড় অংশকে তাদের অন্য ইউনিটে নেওয়া হয়েছে, আর বাকিদের অভিজ্ঞতার সনদ দেওয়া হচ্ছে যাতে অন্য চাকরি পায়। মনে রাখবেন, এটা পুরো প্যাসিফিক গ্রুপ বন্ধ নয়। এটি শুধু তাদের প্রথম কারখানা। তাদের অন্য ৭টি কারখানা চালু আছে।

“এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – এই ৫ হাজার শ্রমিকের কী হবে? শ্রম আইন কী বলে? যেহেতু এটি সিইপিজেডের ভেতরের কারখানা, এখানে চলে ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯।

আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী –
১. কারখানা বন্ধ করলে মালিককে প্রতি বছর চাকরির জন্য ৩০ দিনের মজুরি + ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২. ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব বকেয়া বেতন, ওভারটাইম, ছুটির টাকা পরিশোধ করতে হবে।
৩. বেপজা (BEPZA) এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে।

সরকার এখন কী করবে?
– বেপজা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে – সত্যিই ভবন ঝুঁকিপূর্ণ কি না। – শ্রম অধিদপ্তর বলছে – কোনো শ্রমিককে বিনা পাওনায় বিদায় করা যাবে না। – গত মাসে প্যাসিফিক গ্রুপের ৮টি কারখানা শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ হয়েছিল, পরে খুলেছে। তাই সরকার চায় না আবার ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হোক। তাই আলোচনা চলছে – এই শ্রমিকদের গ্রুপের অন্য কারখানায় স্থানান্তর করা যায় কি না।”

“আমি কোনো মালিকের পক্ষে না, শ্রমিকের পক্ষেও না। আমি সত্যের পক্ষে। একদিকে জীবনের ঝুঁকি, অন্যদিকে ৫ হাজার পরিবারের ভাতের ঝুঁকি।  আমার প্রশ্ন – বুয়েট-চুয়েট যদি বলে ভবন ভাঙতে হবে, তাহলে ভাঙতেই হবে। কিন্তু সেই ভবনের শ্রমিকদের কেন রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হবে? কেন তাদের গ্রুপের অন্য কারখানা – প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড-২, ইউনিভার্সাল জিন্স, জিন্স ২০০০ – তে নেওয়া হবে না?

প্যাসিফিক জিন্সের বড় ক্রেতা জাপানের ইউনিক্লো। তারা যদি দেখে শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, তাহলে বাংলাদেশের পুরো পোশাক শিল্পের বদনাম হবে। তাই সরকারকে বলব – ১৫ নভেম্বরের আগে প্রতিটি শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দিন, আর সম্ভব হলে তাদের অন্য ইউনিটে কাজ দিন।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

৬৪ জেলার সাংবাদিকদের সামনে চট্টলার গর্জন! মন্ত্রীর সামনেই সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের দাবিতে আন্তর্জাতিক আইন তুলে ধরলেন বীর চট্টলা টিভির চেয়ারম্যান এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট! | জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশ