![]()
“বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ – যেখানে বলা আছে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। অনুচ্ছেদ ৩১ – আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রত্যেকের আছে। আর অনুচ্ছেদ ৩২ – জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার। গত ১০ বছর ধরে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করছিলেন – সাইবার আইনে এই তিনটি অনুচ্ছেদ কোথায়? আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বীর চট্টলা টিভির আজকের বিশেষ প্রতিবেদন – সাইবার পুলিশ ইউনিট হচ্ছে, কিন্তু তার আগে সাংবাদিকদের জন্য যা হলো, তা ইতিহাস!” “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেদিন সরাসরি বললেন, বীর চট্টলা টিভি কোট করছে –
উক্তি ১: ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে কোনো আইন করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক যেন এটার শিকার হোক, এই আইন অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’
উক্তি ২: ‘আইনটি যেন নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে।’
উক্তি ৩: ‘সাইবার স্পেস ব্যবহার করে যারা অপরাধ করছে এবং যেসব কর্মকাণ্ড সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। সামাজিক সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধন অক্ষুণ্ণ রেখে আইনটি করা হবে।’ এবং সবচেয়ে বড় উক্তি – ‘এই আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এবং গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।’
“এখন প্রশ্ন – এই ঘোষণা কিভাবে আইন হবে? বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধানে যে গোপন প্রসেস বেরিয়ে এসেছে, তা আজ পর্যন্ত কোনো চ্যানেল বলেনি –
যুক্তি ১ – ১৫ দিনের গোপন টাইমলাইন: মন্ত্রী বলেছেন – ‘আশা করছি আমরা ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই রিকমেন্ডেশনগুলো পাবো। ১৫ দিন পরে আমরা সেটা অফিসিয়ালি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে একটা সিদ্ধান্ত নেবো।’ অর্থাৎ আগামী ১৫ দিনই সাংবাদিকদের জন্য গোল্ডেন টাইম। এর মধ্যেই মতামত দিতে হবে।
যুক্তি ২ – ফোকাল পয়েন্ট PIO: এই ১৫ দিনের মতামত কম্পাইল করার জন্য পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইটি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি সমন্বয় করবে। এটা কেউ জানতো না!
যুক্তি ৩ – ওয়েবসাইটে প্রকাশ: মন্ত্রী বলেছেন – ‘এরপর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। সেখানে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। মতামত যোগ্য হলে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’ অর্থাৎ তৃণমূল সাংবাদিকও চাইলে এখন সরাসরি আইনে হাত দিতে পারবে!
যুক্তি ৪ – সাইবার পুলিশ ইউনিট: আগামী সপ্তাহেই ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। এই ইউনিট সাংবাদিক ধরবে না, ধরবে যারা সাইবার স্পেসে যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। এই প্রসেসটা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এর শপথের সাথে যায় – জনগণের জন্য আইন, জনগণকে নিয়েই আইন।”
“তাহলে বীর চট্টলা টিভি কি চায়?
আমরা চাই –
১. সাংবাদিকদের জন্য ‘সেভিং ক্লজ’ লিখিতভাবে থাকুক
২. আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকুক, যাতে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে না থাকে – মন্ত্রী নিজেও এই কথাটি বলেছেন।
৩. বিলটি সংসদে গেলেও তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না – সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা সেখানে আলোচনা করবেন, বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম থেকে মতামত নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বীর চট্টলা টিভির পক্ষ থেকে স্যালুট! আপনি দেখিয়ে দিলেন – রাষ্ট্র সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ নয়, রাষ্ট্র সাংবাদিকদের অভিভাবক।
আজ থেকে বীর চট্টলা টিভি ঘোষণা করছে – আমরা এই ১৫ দিনের মধ্যে সারা দেশের সাংবাদিকদের মতামত নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবো। কারণ বীর চট্টলা টিভি কারো দালাল নয় – আমরা বাংলাদেশের কণ্ঠ,১৮ কোটি মানুষের কণ্ঠ!