একই অঙ্গে দুই রূপ! সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া একই সাথে পুলিশ ও আইনজীবী! সনদ বাতিল হচ্ছে? চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির শোকজ!

“একই সাথে পুলিশের ওসি, আবার ওদিকে আইনজীবী সমিতির মেম্বার! শুনতে অবাক লাগছে? কিন্তু ঘটনা সত্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার বর্তমান ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া কে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি। আজ আমি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে না, আমি কথা বলবো বাংলাদেশের আইন নিয়ে। আমাদের আইন আসলে কী বলে?”

“অভিযোগটা কী?

ছবিতে দেখুন, অ্যাডভোকেট সাদিয়াতুল জান্নাতের পোস্ট অনুযায়ী – ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া ২০০৪ সাল থেকে পুলিশ বাহিনীতে ফুল-টাইম চাকরি করছেন। তিনি এখন সরাইল থানার ওসি। কিন্তু কাগজপত্র বলছে, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতে এখনও তার মেম্বারশিপ একদম অ্যাক্টিভ!

শুধু তাই না, ২০০২ সালের ২০ অক্টোবর তিনি যখন এই সমিতির সদস্য হন, তখন আইনজীবী সমিতির অ্যানেক্স ভবনে তার নামে একটি চেম্বারের ঠিকানাও বরাদ্দ হয় – যা খাতাকলমে এখনও বহাল তবিয়তে আছে।অর্থাৎ, কাগজে-কলমে তিনি একই সাথে পুলিশ অফিসার এবং প্র্যাকটিসিং আইনজীবী!

এটা কীভাবে সম্ভব?”

“এবার আসি আইনে। আমি ৩টি আইন দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

০১. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২:

অনুচ্ছেদ ২৭(৩) এবং বার কাউন্সিল রুলস ২০১৪ এর বিধি ৯ – স্পষ্ট বলছে – কোনো ব্যক্তি যদি ফুল-টাইম চাকরিতে যোগ দেন, তাহলে তাকে বার কাউন্সিল সনদ সারেন্ডার করতে হবে। তাকে ফর্ম ‘I’ পূরণ করে মেম্বারশিপ স্থগিত করার আবেদন করতে হবে।

আপনি একই সাথে উকিল এবং পুলিশ হতে পারবেন না। কারণ আইনজীবী আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, আর পুলিশ আসামি ধরবে – একই ব্যক্তি দুই পক্ষ হতে পারে না। এটা Conflict of Interest এবং বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৭ এর চাকরির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

০২. পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল ১৯৪৩ এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯:

PRB Rule 84 এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি ১১ বলছে – কোনো পুলিশ সদস্য সরকারের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো লাভজনক পেশা বা ব্যবসা বা আইনজীবী পেশা চালাতে পারবেন না। এটা One Man Two Profession – ওয়ান ম্যান টু প্রফেশন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

০৩. চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির স্ট্যান্ড কী?

সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্যার পরিষ্কার জানিয়েছেন – আইন অনুযায়ী ওয়ান ম্যান টু প্রফেশন বা একই সাথে দুই পেশা চালানোর কোনো সুযোগ নেই। শুধু এই ওসির একাই নন, এমন আরও যারা ওকালতি ছেড়ে অন্য সরকারি-বেসরকারি চাকরি বা ব্যবসা করছেন অথচ সমিতির মেম্বারশিপ ছাড়েননি, তাদের সবার লিস্ট করা হচ্ছে এবং অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে।”

“এখন ওসি র ডিফেন্স কী?

ওসি অবশ্য দাবি করেছেন – ২০০৪ সালে পুলিশে জয়েন করার আগেই তিনি নিয়ম মেনে সদস্যপদ স্থগিত করার অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছিলেন। এতদিন পর এটা কেন এখনও অ্যাক্টিভ দেখাচ্ছে, সেটা তিনি জানেন না। নোটিশ পাওয়ার পর তিনি ওনার সপক্ষের প্রমাণসহ লিখিত জবাবও দাখিল করেছেন। আমরা বীর চট্টলা টিভি, আমরা ওসি র বক্তব্যকেও সম্মান করি।

কিন্তু প্রশ্ন একটাই – যদি তিনি ২০০৪ সালেই অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে থাকেন, তাহলে ২০ বছর পরেও তার চেম্বারের ঠিকানা কেন বহাল আছে? কেন সমিতির হাজিরা খাতায় তার নাম অ্যাক্টিভ? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির তদন্ত কমিটি।

আমার শেষ কথা – আমরা পুলিশকে সম্মান করি, আইনজীবীকে সম্মান করি। কিন্তু আইনের চোখে সবাই সমান। এক ব্যক্তি একই সাথে আসামি ধরবেন, আবার আসামির পক্ষে উকালতিও করবেন – এটা হতে পারে না। এটা হলে বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে আমরা আবার আপনাদের জানাবো। এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক – বীর চট্টলা টিভি

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram