
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বেড়াতে এসে আবাসন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত পর্যটক। হোটেল-মোটেলে কক্ষ না পেয়ে অনেককে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে রাত কাটাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আবাসন সংকটকে পুঁজি করে হোটেলকক্ষে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
পর্যটকদের অভিযোগ, সাধারণ সময়ে যে কক্ষের ভাড়া ২ হাজার টাকা, সেই কক্ষের জন্যই চাওয়া হচ্ছে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে কক্সবাজারে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে হতাশ তাঁরা। থাকার জায়গা না পাওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ—সব মিলিয়ে অনেকের আনন্দের ভ্রমণ পরিণত হচ্ছে দুর্ভোগে।
আবাসন সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া
অভিযোগ রয়েছে, পর্যটকের আগমন বাড়লেই আবাসনসহ বিভিন্ন সেবার মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে কিছু হোটেল-মোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পর্যটকেরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারে পর্যটকদের এমন দুর্ভোগ পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পর্যটকের চাপ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি, হোটেলকক্ষের ভাড়া তদারকি এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটকদের নিরাপদ আবাসন, সহনীয় ভাড়া ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
পর্যটকদের প্রশ্ন, বেড়াতে এসে যদি সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে রাত কাটাতে হয়, আর একটি কক্ষের জন্য স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ দিতে হয়, তাহলে পর্যটন নগরীর ব্যবস্থাপনা কোথায়?
আবাসন সংকট নিরসন, হোটেলকক্ষের ভাড়া তদারকি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পর্যটকেরা। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে শৃঙ্খলাপূর্ণ, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।