ছবি সহ ২০ ডকুমেন্ট ফাঁস! ১ জন শিক্ষক, ২টা বি.এড, ৪ লাখ টাকার হিসাব! জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলছে ফেল, জেলা শিক্ষা অফিস বলছে ৩.৫০! তদন্ত ছিল জাল সনদের, প্রতিবেদনে প্রাইভেটের সনদ!

লক্ষ্মীপুর সদর মুন্ছুর আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। ছবিতে যাকে দেখছেন, ইনি সেই প্রধান শিক্ষক। বীর চট্টলা টিভির হাতে এখন ছবি সহ টোটাল বিশটা ডকুমেন্ট।

প্রথম ডকুমেন্ট: ২৯ অক্টোবর ২০০২। নিজের হাতে লেখা আবেদন। সেখানে তিনি লিখেছেন, বি.এড ২০০১, দ্বিতীয় বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

দ্বিতীয় ডকুমেন্ট: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক সনদ। সেখানে লেখা, ২০০১ সালে এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ। কিন্তু সেই সনদের উপরেই হাতে লেখা আছে, ফেল।

তৃতীয় ডকুমেন্ট: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাই চিঠি, তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিষ্কার লিখেছে, বি.এস.এস পরীক্ষা ১৯৯৮, দ্বিতীয় বিভাগ, সনদটি সঠিক। কিন্তু বি.এড পরীক্ষা ২০০১, রোল ২৬৪০, রেজিস্ট্রেশন ১৩৭৬৫, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রেকর্ড অনুযায়ী ফলাফল অনুত্তীর্ণ, অর্থাৎ ফেল।

চতুর্থ ডকুমেন্ট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। তিনি মুন্ছুর আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি নিউ রাজধানী প্রশিক্ষণ কলেজ ঢাকা থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এড সনদ ২০০১ দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন।

পঞ্চম ডকুমেন্ট: ৩০ মে ২০১৫। একই সনদ দিয়ে হাসন্দি বিজয়নগর নারী শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন।

ষষ্ঠ ডকুমেন্ট: ২৪ জুন ২০১৯। একই সনদ দিয়ে পৌর শহীদ স্মৃতি একাডেমির প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন।

সপ্তম ডকুমেন্ট: গত ৪ মার্চ। জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষক নেতা ইব্রাহিম লিখিত অভিযোগ করেন।

অষ্টম ডকুমেন্ট: জেলা শিক্ষা অফিসারের তদন্ত, তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৬। সেখানে লেখা, কামাল হোসেনের দাবি, তার বি.এড দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা থেকে, ৩.৫০ জিপিএ। অভিযোগটি মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বানোয়াট।

নবম ডকুমেন্ট: দৈনিক লক্ষ্মীপুর নিউজ, ১১ আগস্ট ২০২৬। হেডলাইন, তদন্ত ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদের, প্রতিবেদনে প্রাইভেটের সনদ।

দশম ডকুমেন্ট: আমাদের সময় পত্রিকার রিপোর্ট। সেখানে লেখা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদটি যাচাই করলে জানা যায় সনদটির ফলাফল ফেল।

একাদশ ডকুমেন্ট: হাতে লেখা হিসাবের কাগজ। সেখানে ২ লাখ যোগ ২ লাখ, মোট ৪ লাখ টাকার হিসাব। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী এই হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।

দ্বাদশ ডকুমেন্ট: উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ। সেখানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ ও এলাকার সচেতন সর্বসাধারণের পক্ষে শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষর করে লিখেছেন, প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক এর নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ বিনষ্ট হতে বসেছে।

ত্রয়োদশ ডকুমেন্ট: জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ, তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সেখানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ ও এলাকার সচেতন সর্বসাধারণের পক্ষে মোহাম্মদ আবদুল মজিব স্বাক্ষর করে লিখেছেন, প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক এর নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ বিনষ্ট হতে বসেছে।

এই দুই অভিযোগে আরো যা লেখা আছে, তা শুনলে আপনারা অবাক হবেন। অভিযোগে লেখা, নিয়োগ বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়ম। প্রধান শিক্ষক মহোদয় পরিচালনা পর্ষদের কতিপয় সদস্যের যোগসাজশে বিভিন্ন পদে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য লোক নিয়োগের চেষ্টা করেন এবং যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেন। ৪র্থ শ্রেণির ০১ জন এবং ৪র্থ শ্রেণির ০৩ জন কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগে লেখা, সহকারী শিক্ষকের ওপর নির্যাতন। অতি সম্প্রতি বিদ্যালয়ের একজন এনটিআরসিএ নিয়োগ প্রাপ্ত সম্মানিত সহকারী শিক্ষক, যার দেশের বাড়ি দিনাজপুর, মোহাম্মদ মিন্টু স্যারকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত প্রধান শিক্ষক মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতন করেছেন, যা একজন শিক্ষকের জন্য চরম অপমানজনক এবং শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

অভিযোগে লেখা, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ইজারা। স্কুলের খেলার মাঠ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিয়ে সেখানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য সহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্য পোড়ানো হয়। যাহা বিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

অভিযোগে লেখা, জমি ক্রয়। বিদ্যালয় নতুন ভবনের জন্য জমি ক্রয় করে সেটা অন্য ব্যক্তির নামে মালিকানা করে বিক্রি করে দেয়। অভিযোগে লেখা, নকল সনদ। জনাব কামাল হোসেনের শিক্ষা সনদ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ মাধ্যমে জানতে পারি যে উনার প্রতিটি সনদ নকল। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।এখন জনগণের প্রশ্ন, ১ জন মানুষের ২টা বি.এড কিভাবে?

২০০২ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দিয়ে চাকরি নিয়ে থাকেন, আর ২০২৬ সালে তদন্তের সময় প্রাইভেট সনদ দেখান, তাহলে কোনটা আসল?আইন কি বলে? এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী, জাল সনদে নিয়োগ হলে নিয়োগ বাতিল, এমপিও বাতিল, বেতন ফেরত। দণ্ডবিধি ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ধারা অনুযায়ী জালিয়াতির জন্য ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। তদন্তের রোডম্যাপ, ধাপ এক, ইউজিসি ৭ দিনের মধ্যে প্রাইভেট বি.এড যাচাই করবে। ধাপ দুই, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফেল সনদ নিয়ে থানায় জিডি করবে। ধাপ তিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর অন্য জেলার অফিসার দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। ধাপ চার, দুদক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করবে। আমরা কাউকে দোষী বলছি না। আমরা ৪টা কাগজ চাইছি।

এক, ইউজিসি থেকে প্রাইভেট বি.এড অনুমোদনের কাগজ। দুই, এনটিআরসিএ থেকে এই প্রাইভেট বি.এড প্রধান শিক্ষক পদে গ্রহণযোগ্য কিনা, তার কাগজ। তিন, একই বছরে ২টা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.এড করার অনুমতির কাগজ। চার, ৪ লাখ টাকার হাতে লেখা হিসাবের তদন্ত। বীর চট্টলা টিভির দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ১৫ দিনের মধ্যে বিশটা ডকুমেন্টের তদন্ত করে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন। যদি সনদ আসল হয়, কামাল হোসেনকে সম্মান ফিরিয়ে দিন। যদি জাল হয়, তাহলে তাকে চাকরিচ্যুত করুন।

বীর চট্টলা টিভি, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক লক্ষ্মীপুরের ছাত্রদের পাশে, শিক্ষার পাশে। ১ জন শিক্ষক, ২টা বি.এড, ৪ লাখ টাকার হিসাব, এই রহস্যের সমাধান চাই।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

“১৯৭২ সালে পিনুকে হাতে খড়ি দিয়েছিলেন যে শিক্ষক, আজ তিনি পাথরঘাটায় স্ত্রীকে নিয়ে সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন! প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনার প্রথম শিক্ষক আপনার খোঁজ চায় না, শুধু দোয়া চায়!

“সীতাকুন্ড-সন্দ্বীপ নৌ-রুটে ST নিঝুম দ্বীপ প্রত্যাহার মানে ৪ লাখ মানুষকে সাগরে ঠেলে দেওয়া! BIWTC চেয়ারম্যান ATM আব্দুল বারী ড্যানির কাছে সন্দ্বীপ সিভিল সোসাইটির খোলা চিঠি – ১৮ কোটি মানুষের প্রশ্ন, নৌ-যান থাকবে না কি থাকবে না?