![]()
ভাবুন তো, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একসময় আপনার সামনে প্রাইমারি স্কুলের ছোট বাচ্চা ছিলেন, আর আপনি ছিলেন তাঁর প্রথম শিক্ষক! ১৯৭২ সাল, তখন কাজী আব্দুর রশিদ, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। সেখানেই মাত্র ৫-৬ বছর বয়সী এক ছোট ছেলেকে তিনি প্রথম বর্ণমালা শিখিয়েছিলেন, হাতে খড়ি দিয়েছিলেন।
সেই ছোট ছেলেটি আর কেউ নন, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান! শিক্ষক কাজী আব্দুর রশিদ জানান, ছোটবেলায় তারেক রহমানকে সবাই আদর করে পিনু বলে ডাকতেন। পিনু নাকি ছোটবেলা থেকেই ভীষণ চতুর আর বুদ্ধিমান ছিলেন। গল্পটা এখানেই শেষ নয়!
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বয়ং এই শিক্ষকের সাধারণ ঘরে এসে অতিথি হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি মনে করে শিক্ষক হাসতে হাসতে বলেন, জিয়া সাহেব যখন আমার বাসায় এলেন, আমি তড়িঘড়ি করে বাজার থেকে রসগোল্লা, বিস্কুট আর চা এনে সামনে দিলাম। মিষ্টি দেখে জিয়া সাহেব তো অবাক! বললেন, এসবের কী দরকার ছিল?
আমি উত্তরে বললাম, স্যার, আপনারা বড় মানুষ, আমার এই গরিবের বাসায় মেহেরবানী করে এসেছেন, তাই একটু আয়োজন। তখন উনি কাঁটাচামচ দিয়ে একটা মিষ্টি মুখে নিয়ে হেসে বললেন, মিষ্টি না দিলেও চলতো! খাওয়া-দাওয়ায় উনি ভীষণ সাধারণ মানুষ ছিলেন।
আজ বয়সের ভারে শরীর আর আগের মতো চলে না, ঠিকমতো হাঁটতেও কষ্ট হয়। কিন্তু মনের ভেতর সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি আজও একদম তাজা। জীবনের দীর্ঘ একটা সময় তিনি ব্যয় করেছেন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে। শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সহ দেশের বহু গুণী মানুষের শিক্ষক ছিলেন তিনি। বর্তমানে পাথরঘাটা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে স্ত্রীর সাথে সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন এই গুণী মানুষটি। সবচেয়ে সুন্দর বিষয় কী জানেন? নিজের ছাত্র আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী, অথচ এই শিক্ষকের নিজের জন্য কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই! কোনো পদ-পদবি বা ব্যক্তিগত লাভের আশাও করেন না।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি শুধু একটাই কথা বললেন, আমার নিজের কিছু চাওয়ার নেই, শুধু দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে ঠিকমতো কাজ করার তৌফিক দেন, সে যেন দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে আর দেশের মানুষের উপকার করতে পারে। বীর চট্টলা টিভির মাধ্যমে আমরা আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটাই আবেদন করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ১৯৭২ সালে যে শিক্ষক আপনাকে হাতে খড়ি দিয়েছিলেন, যে শিক্ষক আপনাকে পিনু বলে ডাকতেন, আজ তিনি পাথরঘাটায় অসুস্থ শরীর নিয়ে সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি টাকা চান না, পদ চান না, তিনি শুধু চান আপনি একবার খোঁজ নিন। একজন শিক্ষককে সম্মান জানানো মানে, পুরো জাতিকে সম্মান জানানো।
আমরা চাই, আপনার প্রতিবেদনের পরে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম শিক্ষক কাজী আব্দুর রশিদের খোঁজ নিন, তাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, তার শেষ জীবনটা যেন সম্মানে কাটে। স্যালুট এই পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে! মানুষের মতো মানুষ গড়ার এমন কারিগররা আছেন বলেই সমাজ আজও টিকে আছে।
আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক পাথরঘাটা থেকে, প্রথম শিক্ষকের পাশে।