থামাও সিন্ডিকেট, খাদ্যপণ্যের দাম কমাও, বাঁচাও জীবন—ক্যাব চট্টগ্রামের মানববন্ধন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি রোধ, সিন্ডিকেট ভাঙা, মজুতদারি ও কালোবাজারি বন্ধ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম ও যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) নগরীর জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা বাজার তদারকি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, বিশিষ্ট নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, পলিসি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ চট্টগ্রামের সভাপতি ও কলামিস্ট মুসা খান, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী মিটুল দাস গুপ্ত, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারীনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মো. জানে আলম, ক্যাব পাঁচলাইশ থানা সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির এবং যুব ক্যাব নেতা মামুনুল ইসলামসহ অন্যরা।

এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই: ক্যাব

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিনিয়ত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সয়াবিন তেলের দাম তিনবার বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও এলপিজির দামও একাধিকবার বেড়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন এবং পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। অথচ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা পরে প্রত্যাহার করা হলেও মাঠপর্যায়ে সেই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইভাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম বারবার নির্ধারণ করে দিলেও ব্যবসায়ীদের একাংশ তা মানছে না বলে দাবি করেন তিনি।

রমজানের আগে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষার দাবি

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করলেও সেখানে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। পণ্যের দাম কমানোর প্রসঙ্গ এলেই ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কর হ্রাস ও ভর্তুকিসহ বিভিন্ন শর্ত তুলে ধরা হয়।

তাঁদের অভিযোগ, এভাবে ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসাকে অতিমুনাফার হাতিয়ারে পরিণত করা হচ্ছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পরিবর্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কার্যক্রমকে ‘ফেস্টিভ্যাল সেল’ নামে উপস্থাপন করে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অসাধু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

টিসিবি ও ওএমএস কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান

মানববন্ধনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিসিবির ট্রাকে পণ্য বিক্রি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আমদানি শুল্ক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা যেন সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান বক্তারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ভোক্তাস্বার্থে জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণেরও দাবি জানান তাঁরা।

প্রতিবেদক: মো. রাসেল উদ্দীন
ক্যাব চট্টগ্রাম।

ছবির ক্যাপশন: বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে ‘থামাও সিন্ডিকেট, খাদ্যপণ্যের দাম কমাও, বাঁচাও জীবন—খাদ্যনিরাপত্তার বাংলাদেশ’ স্লোগানে চট্টগ্রামের জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে ক্যাব চট্টগ্রাম ও যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনের একাংশ।

 

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

কাগজে তেল আছে, বাস্তবে তেল নাই! ১ লাখ লিটার জেট ফুয়েল গায়েব! পদ্মা অয়েলের ডিপোতেই ডাকাতি! LPR-এ গিয়েও যারা ৫০০ কোটির মালিক, তাদের সম্পদের হিসাব কোথায়? জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে প্রশ্ন !