৭ নভেম্বর শুধু দিবস নয়, এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় জন্ম! ‘আমি জিয়া বলছি’ – যে কণ্ঠ ১৯৭১-এ স্বাধীনতা এনেছিল, সেই কণ্ঠ ১৯৭৫-এ দেশকে বাঁচিয়েছিল! শহীদ জিয়ার অজানা ৫টি সত্য!

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বৈশিষ্ট্য, তাৎপর্য ও রোডম্যাপ। রোডম্যাপ এবং তারিখ দিয়ে ইতিহাস বুঝুন! ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ বগুড়ার গাবতলীতে জন্ম নিলেন এক শিশু জিয়াউর রহমান। কেউ জানতো না, এই শিশুই একদিন বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দিবে।

২৬ মার্চ ১৯৭১, রাত ২টা  চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে এলো এক কণ্ঠ – “আমি মেজর জিয়া বলছি ”We Revolt।” পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ করলেন তিনিই। এরপর তিনি গঠন করলেন জেড ফোর্স, সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করলেন, পেলেন বীর উত্তম খেতাব।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫  শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলেন। দেশে শুরু হলো অরাজকতা এবং একদলীয় বাকশাল শাসনের পতন হলো। খন্দকার মোশতাক আহমেদ প্রেসিডেন্ট হলেন, জিয়াউর রহমান হলেন সেনাপ্রধান।

৩ নভেম্বর ১৯৭৫  জেলখানায় ৪ জাতীয় নেতা  সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ মনসুর আলী, এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হলো। একই দিন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থান করে জিয়াকে গৃহবন্দি করলেন, নিজে সেনাপ্রধান হলেন।

৭ নভেম্বর ১৯৭৫, ভোর – এইটাই বিপ্লব ও সংহতি দিবস! সাধারণ সিপাহীরা মানলো না। কর্নেল আবু তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা আর সাধারণ সিপাহী-জনতা একসাথে রাস্তায় নামলো। স্লোগান উঠলো – “সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ, সিপাহী-জনতা এক হও।”

২য় ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট গিয়ে জিয়াকে গৃহবন্দি থেকে মুক্ত করলো। রেডিওতে আবার শোনা গেল সেই কণ্ঠ – “আমি জিয়া বলছি।” ১৯৭১-এ যে কণ্ঠ স্বাধীনতা এনেছিল, ১৯৭৫-এ সেই কণ্ঠ দেশকে বাঁচালো।এইটাই বৈশিষ্ট্য – এই বিপ্লব কোনো জেনারেলের বিপ্লব ছিল না, এটা ছিল সিপাহী আর জনতার বিপ্লব! সেনা আর জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে বাঁচিয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বিপ্লব বিরল!

এইটাই তাৎপর্য – এই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক, সম্প্রসারণবাদী ও নব্য-ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্রের জাল থেকে মুক্ত হয়েছিল। একদলীয় শাসনের অবসান হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন আসি সেই ৫টি অজানা সত্যে, যেটা অনেক হাই প্রোফাইল নেতাও জানে না:

১. জিয়া রাজনীতিবিদ হতে চাননি! ১১ নভেম্বর ১৯৭৫, বেতার ও টিভি ভাষণে তিনি বলেছিলেন – “আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি একজন সৈনিক, রাজনীতির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।” কিন্তু দেশের প্রয়োজনে তিনিই রাজনীতিতে এলেন। ১৯ নভেম্বর ১৯৭৬-এ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, ২১ এপ্রিল ১৯৭৭-এ রাষ্ট্রপতি হলেন।

২. জিয়া ছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের জনক! তিনি বলেছিলেন – “আমরা বাংলাদেশি।” বাঙালি জাতীয়তাবাদ থেকে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে নিয়ে এলেন। কারণ বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, বিহারী, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান – সবাই আছে। সবাইকে এক জাতিতে বাঁধলেন তিনি।

৩. ১৯ দফা – বাংলাদেশের প্রথম রোডম্যাপ! ৩০ এপ্রিল ১৯৭৭-এ তিনি দিলেন ১৯ দফা কর্মসূচি। ১ নম্বর দফা – সর্বোতভাবে স্বাধীনতা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। ৩ নম্বর – আত্মনির্ভরশীল জাতি গড়ে তোলা। ১৯ নম্বর – ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা। এই ১৯ দফা থেকেই আজকের তারেক রহমানের ৩১ দফা এসেছে।

৪. জিয়া ছিলেন খাল খননের নায়ক! দেড় বছরে তিনি ১,২০০টি খাল খনন করেছিলেন। ৪০ লাখ নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দিয়েছিলেন। ৬৮,০০০ গ্রামে গ্রাম সরকার গঠন করেছিলেন। তিনি ১০,০০০-এর বেশি গ্রামে নিজে হেঁটে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন – “বাংলাদেশ মানে গ্রাম। গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।”

৫. জিয়া ছিলেন সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা! তিনি বলেছিলেন – “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।” ১৯৭৭ সালে ভারতের সাথে প্রথম গঙ্গা পানি চুক্তি করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা দিয়েছিলেন, যা পরে সার্ক (SAARC) হয়েছিল।

আর তার সবচেয়ে বড় উক্তি – “দল ব্যক্তির চেয়ে বড়, দেশ দলের চেয়ে বড়।” ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮-এ তিনি গঠন করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি। ৩০ মে ১৯৮১, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী সেনাদের হাতে শহীদ হলেন তিনি। বয়স মাত্র ৪৫ বছর, ৭ নভেম্বর ২০২৬। ৫১ বছর পরেও জিয়া বেঁচে আছেন। কারণ জিয়া কোনো ব্যক্তি নন, জিয়া একটি আদর্শ।

আমি বীর চট্টলা টিভি থেকে বলছি – বিপ্লব ও সংহতি দিবস মানে শুধু মিছিল নয়, মানে হলো – সিপাহী-জনতার মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়া। দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশকে বাঁচানো। সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। বীর চট্টলা টিভি। সত্যের সন্ধানে নির্ভীক

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

কাগজে তেল আছে, বাস্তবে তেল নাই! ১ লাখ লিটার জেট ফুয়েল গায়েব! পদ্মা অয়েলের ডিপোতেই ডাকাতি! LPR-এ গিয়েও যারা ৫০০ কোটির মালিক, তাদের সম্পদের হিসাব কোথায়? জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে প্রশ্ন !