“১০০ টাকার তেলে পুলিশ চলতো হিমশিমে, এখন ১৩৫ টাকা! ৬৩৯ থানায় ১১,৯২৩ গাড়ি কিভাবে চলবে? পুলিশের বাজেট না বাড়িয়ে তেলের দাম বাড়ানো মানে জনগণের নিরাপত্তা বন্ধ করে দেওয়া!”

 

বীর চট্টলা টিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন: এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, চেয়ারম্যান বীর চট্টলা টিভি: 

 আজ আমি কোনো রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করবো না আজ আমি বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে কথা বলবো। সরকার ৭ মাস ১০ দিনে ২ বার তেলের দাম বাড়িয়েছে। ডিজেল ১০০ টাকা থেকে এখন ১৩৫ টাকা। আমার প্রশ্ন – পুলিশের তেলের বাজেট কি বেড়েছে? না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি এই নিয়ে একবারও কথা বলেছে? না। তাহলে এই দায় কার? বাংলাদেশে মোট থানা ৬৩৯টা। তার মধ্যে মেট্রো থানা ১১০টা, জেলা থানা ৫২৯টা। জেলা ৬৪টা, রেঞ্জ ডিআইজি অফিস ৮টা, মেট্রো ইউনিট ৮টা, হাইওয়ে ইউনিট ৯টা, রেলওয়ে থানা ২৪টা। পুলিশের মোট ইউনিট ১৭০টা, কোর অপারেশনাল ইউনিট ১৩টা। যেমন – SB, CID, PBI, ATU, Tourist Police, River Police, RAB, APBn। পুলিশের মোট সদস্য ২ লাখ ১৩ হাজার। পুলিশের গাড়ি কয়টা জানেন? পুলিশ হেডকোয়ার্টারের তথ্য বলছে – মোট গাড়ি ১১,৯২৩টা। তার মধ্যে মোটরসাইকেল ৬,৪৪৫টা, ডাবল কেবিন পিকআপ, জিপ, প্রিজন ভ্যান ৫,৪৭৮টা।

এর মধ্যে ডাবল কেবিন পিকআপ ৩,০৭৯টা, জিপ ৬১৬টা, প্রিজন ভ্যান ১৬৫টা। কিন্তু ঘাটতি কত? ঘাটতি ৪,৫০০ গাড়ি। ৯৭টা থানায় মাত্র ১টা করে পিকআপ আছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনে পুলিশের ৫২৬টা গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ২৪১টা ডাবল কেবিন পিকআপ, ২১৭টা মোটরসাইকেল। সরকার গত অক্টোবরে ৪১৮টা গাড়ি কিনেছে – ২০০টা পিকআপ, ১৫২টা মোটরসাইকেল। কিন্তু সেটা পোড়া গাড়ির তুলনায় কিছুই না।

এবার আসেন, তেলের হিসাবে – একটা ডাবল কেবিন পিকআপ লিটারে যায় ৮-১০ কিলোমিটার। একটা থানার গাড়ি দিনে গড়ে ১০০ কিলোমিটার চলে। মানে দিনে ১০ লিটার ডিজেল লাগে। আগে ১০ লিটার তেলের দাম ছিল ১,০০০ টাকা। এখন ১,৩৫০ টাকা। মানে প্রতিদিন একটা থানায় ৩৫০ টাকা বেশি। ৬৩৯টা থানায় দিনে বেশি লাগবে – ৬৩৯ x ৩৫০ = ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৫০ টাকা। মাসে ৬৭ লাখ টাকা। বছরে ৮ কোটি টাকা। এটা শুধু থানা। এর সাথে আছে – ৮টা রেঞ্জ ডিআইজি অফিস, ৮টা মেট্রো, সিআইডি, ডিবি, পিবিআই, ATU – যাদের ATU-র একারই ৪১টা গাড়ি, ৫৮১ জন সদস্য। সিটিএসবি, এসবি, ট্যুরিস্ট পুলিশ – তাদের গাড়ি কিভাবে চলবে? আগে ১০০ টাকা দিয়ে একটা থানা ৩টা টহল দিতে পারতো। এখন ১৩৫ টাকা দিয়ে ২টা টহলও দিতে পারবে না। তাহলে কি হবে?

পুলিশ টহল কমাবে। টহল কমালে চুরি, ডাকাতি বাড়বে।

পুলিশ বলবে – তেল নাই। জনগণ বলবে – পুলিশ আসে না। এই দায়ভার কে নেবে?

আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলছি – সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ বলছে – জনগণের সেবা করা প্রত্যেক কর্মচারীর কর্তব্য। পুলিশ সেই সেবা করে। কিন্তু আপনি যদি তেলের টাকা না দেন, তাহলে পুলিশ সেবা দেবে কিভাবে? আপনারা জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে ২২ হাজার কোটি টাকা লোকসানের কথা শুনে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিলেন। পুলিশের ৮ কোটি টাকা বাড়তি লাগবে, সেটা কেন দিলেন না?

আমি আইজিপি কে অনুরোধ করছি -সারা বাংলাদেশের ৬৩৯ থানার ওসি-দের নিয়ে একটা হিসাব বানান। কত লিটার তেল লাগে, কত টাকা ঘাটতি, সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। আমি ১৮ কোটি জনগণকে বলছি – পুলিশকে গালি দিয়েন না। পুলিশের গাড়িতে তেল নাই। আগে পুলিশকে তেল দেন, তারপর সেবা চান।, বীর চট্টলা টিভি থেকে দাবি করছি –

১. পুলিশের জ্বালানি বাজেট ৩৫% বাড়াতে হবে, কারণ দাম ৩৫% বেড়েছে।
২. প্রতিটা থানায় কমপক্ষে ২টা করে ডাবল কেবিন পিকআপ দিতে হবে। ৯৭টা থানায় ১টা গাড়ি দিয়ে নিরাপত্তা হয় না।
৩. ডিবি, সিআইডি, ATU, সিটিএসবি, ট্যুরিস্ট পুলিশের জন্য আলাদা জ্বালানি বরাদ্দ দিতে হবে।

নাহলে এই ১৩৫ টাকার ডিজেল একদিন পুলিশকে থানায় বসিয়ে রাখবে, আর মাঠে অপরাধীরা ঘুরে বেড়াবে।

পুলিশ বাঁচলে, জনগণ বাঁচবে।”

“তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার – মোট থানা ৬৩৯টি (১১০ মেট্রো + ৫২৯ জেলা), জেলা ৬৪টি, রেঞ্জ ৮টি, মোট ইউনিট ১৭০টি, মোট ফোর্স ২,১৩,০০০, মোট গাড়ি ১১,৯২৩টি (৬,৪৪৫ মোটরসাইকেল + ৫,৪৭৮ অন্যান্য), ঘাটতি ৪,৫০০ গাড়ি, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এ ৫২৬টি গাড়ি পুড়েছে, অক্টোবর ২০২৫-এ ৪১৮টি গাড়ি ক্রয়। ATU-তে ৪১টি গাড়ি ও ৫৮১ জন সদস্য। ডিজেল ১০০ থেকে ১৩৫ টাকা বৃদ্ধি। হিসাব আনুমানিক, জনস্বার্থে।”

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

৩ মাসে ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন তেল আমদানি, পদ্মায় ৪৫% মেঘনায় ৩০% যমুনায় ২৫%! তবুও দাম বাড়লো ২০ টাকা! গোডাউনে ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার তেল গায়েব – জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সাথেই বেইমানি?