৩ মাসে ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন তেল আমদানি, পদ্মায় ৪৫% মেঘনায় ৩০% যমুনায় ২৫%! তবুও দাম বাড়লো ২০ টাকা! গোডাউনে ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার তেল গায়েব – জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সাথেই বেইমানি?

বীর চট্টলা টিভির এক্সক্লুসিভ অনুসন্ধানী রিপোর্ট ১৮ কোটি মানুষের কন্ঠ। আপনারা বলেন সরকার ৭ মাসে ২ বার দাম বাড়ালো, যৌক্তিক? আমি বলছি – অযৌক্তিক না, এটা জনগণের সাথে প্রতারণা। কেন? প্রথমে আসেন, গত ৩ মাসে BPC (Bangladesh Petroleum Corporation) কত তেল এনেছে? বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্য বলছে – ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ ৯ মাসে BPC তেল এনেছে ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন। আগের বছর একই সময়ে এনেছিল ৫০ লাখ টন। মানে আমদানি বাড়ছে।

শুধু যুদ্ধের ১ মাসে – মার্চ মাসে – ১১টা জাহাজে ৩ লাখ ২৭ হাজার টন তেল এনেছে। তার মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল, ২২ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল। আর ভারত থেকে পাইপলাইনে এনেছে ২২ হাজার টন।

গত জুন, জুলাই, আগস্ট – ৩ মাসের জন্য সরকার নতুন করে ৫ লাখ টন তেল আনার অনুমোদন দিয়েছে। তার মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল, ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল। দাম ৭ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। সাপ্লায়ার সিঙ্গাপুরের ইউনিপেক।

এই তেল কোথায় যায়? তিন ভাগে ভাগ হয় –

পদ্মা অয়েল কোম্পানি – ৪৫%, মেঘনা পেট্রোলিয়াম – ৩০%, যমুনা অয়েল কোম্পানি – ২৫%= ১০০%

আর ভারতের পাইপলাইন থেকে যে ৪,০০০ টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল আসে, সেটা তিন কোম্পানিতে সমান ভাগে যায়। ৭২তম চালান এসেছে ১৩ সেপ্টেম্বর পার্বতীপুরে। এবার আসেন, চুরির জায়গাটা কোথায়?

প্রথম আলোর রিপোর্ট বলছে – চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে পাইপলাইনে তেল পাঠানোর সময় ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার ডিজেল গায়েব হয়ে গেছে। শুধু মেঘনার ডিপোতে ২৫ লাখ ৩৭ হাজার লিটার পাঠানো হয়েছিল, পাওয়া গেছে ২৪ লাখ ২২ হাজার লিটার। ১ লাখ ১৫ হাজার লিটার নাই। মানে ৪.৫% গায়েব। পদ্মার ডিপোতে ২৭ হাজার লিটার গায়েব।

BPC বলে – ০.৩৩% লস হতেই পারে। কিন্তু ৪.৫% লস মানে কি? একটা ডিপস্টিক ২ মিলিমিটার কম দেখালেই ১,১৮০ লিটার তেল চুরি করা যায়। এইটা আমি বলছি না, BPC-র নিজের লোক বলছে।

তাহলে জনগণের প্রশ্ন – যখন গোডাউন থেকেই দেড় লাখ লিটার তেল গায়েব হয়, তখন সেই লোকসানের টাকা জনগণের কাছ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে নেবেন কেন?

দ্বিতীয় প্রশ্ন –

সংবিধানের ১৫-এর(ক) ধারায়- মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধানের ৭-এর(১) ধারায় বলেছে – প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ৭ মাসে ২ বার তেলের দাম বাড়াবেন, অথচ বাস মালিক, ট্রাক মালিক, কৃষক, বিরোধীদল – কারো সাথে আলোচনা করবেন না? এটা কি জনগণের মালিকানাকে অস্বীকার করা নয়? সংবিধানের ১৮-এর(ক) ধারায় – পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ডিজেলের দাম বাড়লে ইটভাটা, জেনারেটরে ডিজেলের বদলে কয়লা পুড়বে এতে পরিবেশ নষ্ট হবে।

আন্তর্জাতিক ইস্যুটা কি আসল? হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক ইস্যু আছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ, হুতিদের হামলায় সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ। ফ্রেইট চার্জ দ্বিগুণ। মার্চে BPC-র একটা জাহাজে ১৬২ কোটি ও ১৬৮ কোটি টাকা বেশি লেগেছে। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর, যেদিন বাংলাদেশে দাম বাড়লো, সেদিন বিশ্ববাজারে দাম ১০৭ ডলার থেকে কমে ১০১ ডলার হয়েছে। সরকার বলছে – আমরা এখনো ৭০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছি, পুরা দাম নিলে ২০৫ টাকা হতো। যদি ৭০ টাকা ভর্তুকি দেন, তাহলে সেই ভর্তুকির টাকা আসে কোথা থেকে? জনগণের ট্যাক্স থেকে। তাহলে জনগণকে না জানিয়ে কেন?

বীর চট্টলা টিভি ১৮ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে -৩ দফা দাবি করছি :-

১. BPC-র গত ৩ মাসের আমদানির LC, জাহাজ ভাড়া, পদ্মা-মেঘনা-যমুনার আলাদা লাভ-লোকসানের হিসাব ওয়েবসাইটে দিতে হবে।

২. গোদনাইলে ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার গায়েবের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।

৩. পরবর্তী দাম বাড়ানোর আগে বাস-ট্রাক মালিক, কৃষক প্রতিনিধি, বিরোধীদল নিয়ে গণশুনানি করতে হবে। এটা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের দাবি।

৭ মাস ১০ দিনের সরকার যদি ৩৫ টাকা বাড়ায়, তাহলে ৫ বছরে ৩০০ টাকা হবে। আর ৩০০ টাকা হলে এই দেশের কৃষক মরবে, শ্রমিক মরবে, আমার আপনার ভাতের থালা খালি হবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়, হিসাব দেন, কারণ জনগণকে হিসাব দেওয়া আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব কেন না আপনারা জনগণের সেবক?

“তথ্যসূত্র: BPC ৯ মাসে ৫.৭৪ মিলিয়ন টন আমদানি, ভারত থেকে ৪০০০ MT ৪৭ লাখ লিটার চালান সমান ভাগে তিন কোম্পানিতে বন্টন, গোদনাইলে ১.৫ লাখ লিটার গায়েব, মেঘনায় ১,১৫,২৫১ লিটার ঘাটতি, সরকারের ভাষ্য ডিজেল ২০৫ টাকা হওয়ার কথা, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ১০১.৭০ ডলারে নেমে আসা। জনস্বার্থে প্রতিবেদন।”

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

৩ মাসে ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন তেল আমদানি, পদ্মায় ৪৫% মেঘনায় ৩০% যমুনায় ২৫%! তবুও দাম বাড়লো ২০ টাকা! গোডাউনে ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার তেল গায়েব – জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সাথেই বেইমানি?