রাজপথ থেকে উঠে আসা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েতের বিরুদ্ধে ৯ বছরের হানি-ট্র্যাপ! ২০১৬ সালের হারানো ফোনের ছবি দিয়ে ৩য় দফা ষড়যন্ত্র, কারণ সিডিএ-তে তাঁর জিরো টলারেন্স!

বীর চট্টলা টিভির এক্সক্লুসিভ অনুসন্ধান | তথ্য যাচাই রিপোর্ট

তিনি কোনো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা চেয়ারম্যান নন। তিনি ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন – রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন রাজনীতিবিদ। মিছিল, মিটিং, আন্দোলন থেকে আজ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-র চেয়ারম্যান। ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি এক বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নেন। সিডিএ-র সরকারি ওয়েবসাইটেও বর্তমানে তাঁর নাম চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে।

দায়িত্ব নিয়েই তিনি যা করলেন, ৩০ বছরে কেউ করেনি: তথ্য বলছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সিডিএ আইন-২০১৮ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে ঘোষণা দিলেন – জিরো টলারেন্স।

১. নগরীর ৪৩টি অবৈধ বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে নোটিশ এবং নির্মাণ বন্ধ।

২. অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা ২টি বেসরকারি হাসপাতালের নকশা বাতিল।

৩. আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তৈরি করা ১টি স্কুল ও কলেজ ভবনের বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু।

যারা আইনকে টাকা দিয়ে কিনে বৈধভাবে বিল্ডিং করেছে বলে প্রচার করতো, তাদের মুখোশ খুলে দেন তিনি। আর তখনই তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হলো আসল খেলা। ৯ বছরের ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস: আমাদের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আজ যে ‘গোপন ভিডিও’ বলে ভাইরাল করা হচ্ছে, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়।

২০১৬ সাল: ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। তিনি নিজে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই ফোনে ছিল তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত গোসলের একটি ছবি। পরিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে – সেই ছবি দিয়েই ২০১৬ সালে প্রথম তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়। ২০১৮ সাল: নির্বাচনের আগে দ্বিতীয় দফায় একই ছবি ছড়িয়ে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা। ২০২৫ সাল: জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তৃতীয়বার একই ছবিকে ভিডিও আকারে এডিট করে বাজারে ছাড়া হয়। ২০২৬ সাল: তিনি সিডিএ-তে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করার পরপরই, ৯ বছরের পুরনো সেই একই ছবি আবার ভাইরাল। টাইমিংটা কি কাকতালীয়? এটা হানি-ট্র্যাপ ছাড়া কিছুই নয়।

ভিডিওটির সত্যতা কী?

আমরা যে দুটি ছবি দেখেছি, তা আমরা যাচাই করেছি।
– ফুটেজটি ঝাপসা, আলো স্বল্প, মুখমণ্ডল অস্পষ্ট।
– মূল ফাইল নেই, আছে একাধিকবার সম্পাদিত ও সংকুচিত সংস্করণ।
– কখন, কোথায়, কোন যন্ত্রে ধারণ – কোনো মেটাডেটা নেই।
– এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সরকারি সংস্থা বা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
– শুধু চেহারার আংশিক মিলের ভিত্তিতে কারো পরিচয় নিশ্চিত করা প্রযুক্তিগত ও সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কথিত ‘গোপন ভিডিও’র সত্যতা প্রমাণিত নয়।

সংবিধান ও আইন কী বলছে? আমাদের দাবি:

বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৩(খ) অনুচ্ছেদ – প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর ২৪ ও ২৫ ধারা – অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত ছবি ধারণ, প্রকাশ ও বিকৃতি ৫ বছর জেল ও ১ কোটি টাকা জরিমানার অপরাধ। তাই বীর চট্টলা টিভির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমাদের ৩ দফা দাবি:

১. হানি-ট্র্যাপের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা: যারা ২০১৬ সালের হারানো ফোনের ছবি দিয়ে একজন সম্মানিত ব্যক্তির মানহানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বাদী হয়ে মামলা করতে হবে।

২. সাংবাদিক মহলের জন্য জিরো টলারেন্স: কোনো ছবি বা ভিডিও পাওয়ার সাথে সাথে যাচাই ছাড়া, ফরেনসিক ছাড়া কোনো সম্মানী ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিউজ করা যাবে না। প্রেস কাউন্সিলকে কঠোর নীতিমালা করতে হবে। কারণ আজ বেলায়েত হোসেন, কাল যে কেউ হতে পারে।

৩. ২০১৬ সালের জিডির তদন্ত: সেই হারানো ফোন উদ্ধার করে এর পেছনের চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

প্রশ্ন উঠেছে – নিয়োগের পরপরই একজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে ঘিরে এমন ভিডিও কেন ছাড়ানো হলো? এটি কি সত্যিকারের ঘটনার দৃশ্য, পুরনো বা প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন ফুটেজ, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি বিভ্রান্তি? উত্তর মিলবে কেবল নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রযুক্তিগত যাচাইয়ে। যাচাই ছাড়া এমন সংবেদনশীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া একজন ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটানোর পাশাপাশি আইনি জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। তাই সবার প্রতি আহ্বান – প্রমাণ ছাড়া ভিডিওটি শেয়ার না করে দায়িত্বশীল আচরণ করুন।

বীর চট্টলা টিভি স্পষ্ট করে বলছে – সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন অত্যন্ত ভালো মানুষ, সৎ মানুষ। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন বলেই আজ তাঁর বিরুদ্ধে এই নোংরা খেলা। সি ডিএ চেয়ারম্যান আপনি ভয় পাবেন না, ৭০ লাখ চট্টগ্রামবাসী আপনার সাথে আছে

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

৩ মাসে ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন তেল আমদানি, পদ্মায় ৪৫% মেঘনায় ৩০% যমুনায় ২৫%! তবুও দাম বাড়লো ২০ টাকা! গোডাউনে ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার তেল গায়েব – জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সাথেই বেইমানি?