![]()
আইসিইউ’র দরজা, বাইরে একটি শহরের হৃদস্পন্দন থমকে আছে। ভেতরে শুয়ে আছেন মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। বাইরে অপেক্ষায় চট্টগ্রাম।
১ নভেম্বর থেকে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে। প্রথমে সিসিইউ, এখন আইসিইউ। চিকিৎসকরা বলছেন – নিবিড় পর্যবেক্ষণে। আর তখনই হাটহাজারীর মীরেরখিল থেকে ফটিকছড়ি, রাউজান থেকে সীতাকুণ্ড, রাঙ্গুনিয়া থেকে হাটহাজারী – প্রতিটি মসজিদে, প্রতিটি ঘরে হাত উঠেছে। দোয়া চেয়েছেন তার ছেলে – ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন – চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারীর মাননীয় সংসদ সদস্য, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।
বাবা ছিলেন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়, ছেলে আজ তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায়। এক বাতি থেকে আরেক বাতির জ্বলে ওঠা। কিন্তু প্রশ্ন – কেন? কেন একজন মানুষের জন্য পুরো উত্তর চট্টগ্রাম কাঁদে? উত্তরটা লেখা আছে চট্টগ্রামের আকাশে। আপনি যখন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন, রানওয়ের দিকে তাকাবেন – তখন একজন মানুষকে মনে করতে বাধ্য হবেন। তিনি মীর নাছির। ২০০১ থেকে ২০০৫। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
তখনই চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে সত্যিকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার কাজটি তার হাত ধরেই গতি পায়। আজ হাজারো প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চট্টগ্রামবাসী সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যায় – প্রতিটি ফ্লাইটের সাথে মিশে আছে মীর নাছিরের অবদান। চট্টগ্রামের মানুষ তাই আকাশে তাকালেই তাকে মনে করে। আরেকটি গল্প আছে – যা উত্তর চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে শোনা যায়।
হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া – হাজারো তরুণের হাতে যখন কোনো কাজ ছিল না, তখন দরজা খুলে দিয়েছিলেন একজন। মীর নাছির। কেউ বলে – বিমানে চাকরি, কেউ বলে বন্দরে, কেউ বলে সরকারি অফিসে। তিনি হিসেব রাখেননি। উত্তর চট্টগ্রামের এমন কোনো গ্রাম নেই, যেখানে কর্মসংস্থানে মীর নাছিরের ভূমিকা নেই। তিনি বিশ্বাস করতেন – রাজনীতি মানে পদ নয়, রাজনীতি মানে মানুষের ঘরে ভাত পৌঁছে দেওয়া। তাই আজও মানুষ বলে – ‘মীর নাছির ভাইয়ের বদান্যতায় পেয়েছিলাম।’ এই ঋণ চট্টগ্রাম ভোলেনি।
১৯৭৭ সাল – শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা সেই তরুণ। ১৯৯১ সালের ১১ মে – চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র – ১৯৯৩ পর্যন্ত। চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম রাজনৈতিক মেয়র হিসেবে নগরীর ভিত্তি গড়েছিলেন। তারপর মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।
মামলা, জেল, ১/১১, ১৩ বছরের সাজা, আবার খালাস – সব দেখেছেন। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। আজ ইউনাইটেড হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা মানুষটি হয়তো জানেন না – তার জন্য কত মানুষ কাঁদছে। যে বিমানবন্দর তিনি সাজিয়েছেন, সেই বিমানবন্দর দিয়ে আজও হাজারো মানুষ বিদেশে যায়, আর তার জন্য দোয়া করে আসে। যে ছেলেটি তার দেওয়া চাকরিতে আজ সংসার চালায়, সে আজ তার সন্তানকে নিয়ে হাত তুলেছে। আমরা বলি – হাসপাতালের মনিটরের বিপ বিপ শব্দটা চলুক।
চট্টগ্রামের আকাশে তারাগুলোও জ্বলুক, উত্তর চট্টগ্রামের আলোটাও জ্বলুক। মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ফিরে আসুক তার হাটহাজারীতে, তার চট্টগ্রামে। কারণ কিছু মানুষ মন্ত্রী হন না, মেয়র হন না, তারা মানুষের হৃদয়ে ঘর বাঁধেন। মীর নাছির তেমনই একজন। চট্টগ্রামের এই প্রবীণ রাজনীতিকের জন্য মন থেকে দোয়া। আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি – মীর নাছির পরিবারের পাশে, চট্টগ্রামের পাশে।” সত্যের সন্ধানে নির্ভীক