চুয়েটে ১৫ দিনের অচলাবস্থা: দ্রুত নিরসনে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি ক্যাব চট্টগ্রামের।

চট্টগ্রাম | ৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশের অন্যতম শীর্ষ মেধাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া তীব্র অচলাবস্থা নিরসনে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধান মন্ত্রীর দ্রুত সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। একইসঙ্গে এই সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রহস্যজনক ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

আজ ৫ই অক্টোবর সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর এবং যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমান।

৩ মাস পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় বিনা কারণে উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে বাদ দিয়ে বিতর্কিত অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করার পর থেকেই চুয়েটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামায় গত ১৫ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও পাঠদানসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে অন্তত তিন মাস হারিয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন সায়েমের পুনর্বহাল চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা?

ক্যাব নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের প্রিয়ভাজন অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম সবার কথা সরাসরি শুনতেন। বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের কারণে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছিলেন।

অথচ তিনি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে তাকে না জানিয়ে বা কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অসম্মানজনক। উপরন্তু, চুয়েটের বাইর থেকে বিতর্কিত অতীত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। নতুন উপাচার্য অনলাইনে দায়িত্ব নিলেও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে আজও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানচর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

ক্যাব নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধা ও জ্ঞানের চর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারের। কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মেধাবীদের যোগ্য সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।” শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পেশিশক্তি ও ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram