“জুলাই সনদে সই করেও বাস্তবায়ন হয়নি কেন? লন্ডনে রোডম্যাপ দিয়ে এলেন, ঢাকায় সনদে সই করলেন না! নোট অব ডিসেন্টের আড়ালে দেশ অরাজকতার দিকে! আন্দোলন নয়, সংবিধানই সমাধান!

বাংলাদেশের মানুষ আজ একটা প্রশ্ন করছে, জুলাই সনদে সই করেও বাস্তবায়ন হয়নি কেন? ১৭ অক্টোবর ২০২৫ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৯ মাসের সংলাপের পর জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর হয়। মোট ৮৪ /৪৮ দফা সংবিধান সংক্রান্ত, ৩৬ দফা আইন, অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নযোগ্য। সেদিন বলা হয়েছিল, এই সনদ হবে ভবিষ্যতের পথরেখা।

১৩ নভেম্বর ২০২৫ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের গেজেট প্রকাশিত হয়। কিন্তু তার আগেই, ১৩ জুন ২০২৫। লন্ডন, দি ডরচেস্টার হোটেল। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান বৈঠক করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা ছিল, কিন্তু প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে নির্বাচন হতে পারে। এখানেই বড় প্রশ্ন। জুলাই সনদের সই না করে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিয়ে, ড. ইউনূস কেন তারেক রহমানের সাথে লন্ডনে গিয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিয়ে এলেন? এটা কি তার বড় ভুল ছিল না?

মাহমুদুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, নাহিদ, আসিফ ও ড. ইউনূসের গাফিলতি ছিল। তাদের গাফিলতির কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এই বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরছি, রায় হিসেবে নয়।কারণ সত্য হলো, জুলাই সনদে সই করার আগেই যদি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়ে যায়, তাহলে সনদের দাম থাকে না, সনদ তখন হয়ে যায় কাগজের দলিল।

ড. ইউনূসের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল আরেক জায়গায় তিনি সব সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে বসেছেন। তিনি কখনো বাংলাদেশের যোগ্যতা সম্পন্ন, নির্দলীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বসেন নাই। তিনি কখনো শিক্ষক, বিচারক, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, আলেম, সংখ্যালঘু, নারী, তরুণ – এই সমাজের আসল মালিকদের নিয়ে বসেন নাই। যার কারণে আজকে দেশের এই পরিস্থিতি।

এখন যদি জুলাই সনদের জন্য আবার আন্দোলন করে, এটা কি নোট অব ডিসেন্টের আওতায় পড়ে না? হ্যাঁ, পড়ে। কারণ নোট অব ডিসেন্ট মানে ভিন্নমত। ভিন্নমত থাকলে তা সংসদে আলোচনা হবে, গণভোটে যাবে, আদালতে যাবে। রাজপথে নয়। এখন বিরোধী দল কথায় কথায় আন্দোলন করছে। তাতে দেশের ক্ষতি, জনগনের ক্ষতি, সবদিক দিয়ে ক্ষতি। পুলিশ অতিরিক্ত ডিউটি পালন করছে অনেক সময় বিরোধী দলের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হচ্ছে, হাতাহাতি হচ্ছে। দেশের ভিতরে একটা অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। এই অরাজকতার দায় কে নিবে? তাই বীর চট্টলা টিভির প্রস্তাব, আন্দোলন নয়, সংবিধানই সমাধান।

সংবিধান কি বলে? সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ – প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। অনুচ্ছেদ ৩৯ – বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, কিন্তু যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে অনুচ্ছেদ ৩৭ – শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার। অনুচ্ছেদ ১৫২ – সংবিধান সংশোধন করতে হলে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে।

এইটা অনেক এমপি, মন্ত্রী, এমনকি সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টের বিচারপতিরাও ভুলে যান। সংবিধান সংশোধন মানে সংবিধানকে বাতিল করা নয়, সংবিধান সংস্কার মানে সংবিধানকে ভেঙে ফেলা নয়, সংবিধান সংস্কার মানে সংবিধানের ভিতরে থেকে, সংবিধানের নিয়ম মেনে, সংবিধানকে আরো গণতান্ত্রিক করা।

বিরোধী দলের করণীয় কি?

প্রথমত: আন্দোলন বন্ধ করে সংসদে যান, সংসদে জুলাই সনদের ৪৮ দফার প্রতিটি দফা নিয়ে আলোচনা করেন। কোন দফায় নোট অব ডিসেন্ট আছে, কোন দফায় নাই, তা সাদা কাগজে লিখে জনগণকে দেখান।

দ্বিতীয়ত: গণভোটের রায়কে সম্মান করেন। গণভোটে জনগণ যা বলেছে, তা বাস্তবায়ন করার জন্য সংসদে বিল আনেন।

তৃতীয়: পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করবেন না, পুলিশ আমাদেরই ভাই। পুলিশ ১২ ঘণ্টা, ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করছে। তাদের পরিবার আছে। তাদের সাথে হাতাহাতি করলে দেশের ক্ষতি এবং আপনার দলেরই ক্ষতি।

চতুর্থ: সরকারের করণীয় কি? সরকারকে বলছি, আপনারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি রাখেন। সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় করবেন না। গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেন। ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদের দফাগুলো সংবিধানে যুক্ত করেন।

পঞ্চম: ড. ইউনূস, নাহিদ, আসিফ – আপনাদের ভুল থেকে শিক্ষা নেন, এখনো সময় আছে। আপনারা রাজনৈতিক দল নয়, আপনারা জাতির অভিভাবক ছিলেন। আপনারা যদি নির্দলীয়, যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসতেন, তাহলে আজ দেশে এই অরাজকতা হতো না।

বীর চট্টলা টিভির প্রস্তাব- সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, বিচারক, সাংবাদিক – সবাইকে নিয়ে ৭ দিনের জাতীয় সংলাপ ডাকেন। সেই সংলাপ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করেন। জনগণ দেখুক, কে সনদ চায়, কে সনদ চায় না। আন্দোলন দিয়ে দেশ শান্ত হবে না, সংবিধান দিয়ে দেশ শান্ত হবে, আইন দিয়ে দেশ শান্ত হবে।

আমি এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট, বীর চট্টলা টিভি, জনগণের কণ্ঠ। আমি কোনো দলের লোক না, আমি সংবিধানের লোক। আমরা চাই সরকারও বিরোধী আলোচনা সাপেক্ষে দেশে শান্তি ফিরে আসবে । জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক, কিন্তু রক্ত দিয়ে নয়, ভোট দিয়ে, আইন দিয়ে, সংবিধান দিয়ে।

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

“১৯৭২ সালে পিনুকে হাতে খড়ি দিয়েছিলেন যে শিক্ষক, আজ তিনি পাথরঘাটায় স্ত্রীকে নিয়ে সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন! প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনার প্রথম শিক্ষক আপনার খোঁজ চায় না, শুধু দোয়া চায়!