বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধানে ফাঁস: চট্টগ্রাম স্টেশনে পার্কিংয়ের নামে মহা-লুটপাট, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি – কার আশীর্বাদে এই সাহস?

“চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন। বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে লাভজনক স্টেশনগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, শত শত গাড়ি। আর এই স্টেশনেরই দুটি পার্কিং – পূর্ব পাশে ৭০ হাজার বর্গফুট, উত্তর পাশে ৩৮ হাজার বর্গফুট – মোট ১ লক্ষ ৮ হাজার বর্গফুট রেলের খাস জমি।

বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধানী টিম গত ১৫ দিন ধরে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখেছে – এই পুরো জায়গাটি গত ৪ মাস ধরে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন কার, মাইক্রোবাস, কাভার্ড ভ্যান, বাস, মোটরসাইকেল থেকে জোরপূর্বক পার্কিং ফি আদায় করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল ৩০, কার ৫০, ছোট কাভার্ড ভ্যান ১৩০, বড় কাভার্ড ভ্যান ১৫০ টাকা। আমাদের হিসাবে, প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫০ থেকে ৩০০ গাড়ি এখানে রাখা হয়। অর্থাৎ, প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। এই টাকার এক পয়সাও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না।”

“এবার প্রশ্ন হলো – এই টাকা তোলার বৈধতা কী?

বীর চট্টলা টিভির হাতে আসা নথি বলছে, এই পার্কিংয়ের বৈধ ইজারা শেষ হয়ে গেছে ২০১৯ সালের ২৫শে ডিসেম্বর। ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল – পূর্ব পাশের জন্য ৭ লক্ষ ৫০ হাজার, উত্তর পাশের জন্য ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায়। এরপর এক বছরের জন্য নবায়ন করা হয়, কিন্তু সেই চুক্তিতে আর নবায়নের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

নিয়ম অনুযায়ী, নতুন করে দরপত্র আহ্বান করার কথা। ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বানও করা হয়। কিন্তু সাবেক ইজারাদার হাইকোর্টে রিট করে পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেন। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য – গত ২০শে মে, হাইকোর্ট সেই রিটের রুল ডিসচার্জ অর্থাৎ খারিজ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, আজ থেকে ৪ মাস আগেই আদালত বলে দিয়েছে – সাবেক ইজারাদারের আর কোনো অধিকার নেই।

তারপরও তিনি কীভাবে ফি আদায় করছেন?

এখানেই সংবিধান ও আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রেলের জমি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। অনুচ্ছেদ ৪৩ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আর রেলওয়ে আইন ১৮৯০ এর ধারা ১৩৭ এ স্পষ্ট বলা আছে – রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া রেলওয়ে এলাকায় কোনো প্রকার টোল বা ফি আদায় করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এর জন্য ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আমরা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এর সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তিনি প্রথমে বলেছিলেন তিনি এই বিষয়ে অবগত নন। একজন ডিআরএম, যার নাকের ডগায় ১ লক্ষ বর্গফুট জমি দখল হয়ে আছে, তিনি জানেন না – এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? পার্কিংয়ের ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন ‘অফিসের নির্দেশে করছি’। কোন অফিস? লিখিত নির্দেশ দেখাতে বললে তিনি কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।”

“বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধান বলছে, এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। এটি একটি সিন্ডিকেট। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন দর নির্ধারণের ফাইল আটকে রেখেছে। তারা বলছে নতুন দর পাওয়া গেছে, কিন্তু দরপত্র আহ্বান করছে না। এই ফাঁকেই চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য। আমরা এই মুহূর্তে রেলমন্ত্রী, রেলওয়ে সচিব এবং মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

চট্টগ্রামের ৭০ লক্ষ মানুষের ৩ দফা দাবি –

১. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের দুটি পার্কিং অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে।

২. গত ৪ মাসে আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা যে অবৈধভাবে আদায় করা হয়েছে, তার হিসাব বের করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে এবং রেলওয়ে আইন ১৮৯০ অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে।

৩. এই ৪ মাসে কাদের নীরবতায় এই লুটপাট চললো, ডিআরএম অফিস ও ভূ-সম্পত্তি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

রেলের জমি জনগণের জমি। জনগণের টাকা লুট হতে পারে না। বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধান চলবে। আমাদের কাছে আরো তথ্য আসছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে,

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

১৭ দফা মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বাঁচানোর ডাক সচিব আশরাফুল আমিনের: সড়ক বাড়িয়ে নয়, ডাটা দিয়ে জ্যাম-জলাবদ্ধতা-বর্জ্য জয় – দেশের প্রথম ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল সেন্টার চট্টগ্রামে।