হালিশহর সিএসডি গোডাউনের ৫.৩৭ একর রেলের জমি দখলের মহোৎসব – কৃষি লাইসেন্সে বস্তি ও মার্কেট বাণিজ্য – রেলের ভবিষ্যৎ সিজিপিওয়াই ও আসাম রুট ধ্বংসের মুখে।

বীর চট্টলা টিভির দীর্ঘ ৩ মাসের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। এই CSD গোডাউন সংলগ্ন ৫ দশমিক ৩৭ একর জমি – বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের নামে লিজ নেওয়া হয়েছে। কাগজে লেখা – কৃষি ও অস্থায়ী ব্যবহারের জন্য একসনা লাইসেন্স।

কিন্তু বাস্তবে কি? আমার ক্যামেরায় দেখুন – এখানে কৃষি নেই, এখানে আছে – বস্তির মতো ঘর, টিনশেড দোকান, আর সেই দোকান মাসে ১০-১৫ হাজার টাকায় বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। মানে রেলের জমি, ট্রাস্টের নামে লিজ, আর ভাড়া খাচ্ছে বাইরের মানুষ। রেল পাচ্ছে কত? নামমাত্র লাইসেন্স ফি। আর বস্তির মতো পরিবেশের কারণে পুরো CSD-র নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে।”

“এই ৫.৩৭ একর জমি কেন গুরুত্বপূর্ণ জানেন?

আপনারা জানেন – চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য সিজিপিওয়াই ইয়ার্ড সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা আছে। আপনারা জানেন – ভারতের আসাম ও আগরতলা অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের হাব হবে চট্টগ্রাম। ২০০১ সালে তৎকালীন যোগাযোগ সচিব সৈয়দ রেজওয়ানুল হায়াতের পরিদর্শন প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল – চট্টগ্রামকে হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আশপাশের জমি সংরক্ষণ করতে হবে।

আর আজ সেই সংরক্ষিত জমিতেই স্থায়ী মার্কেট। যদি আগামীকাল CSD-তে মালবাহী ট্রেনের চাপ বাড়ে, যদি আসাম রুটের জন্য নতুন লাইন লাগে – এই স্থায়ী দোকানগুলো সরাবেন কিভাবে? জমি পুনরুদ্ধার করতে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ লাগবে, মামলা লাগবে ১০ বছর। মানে ভবিষ্যৎ রেল উন্নয়নকে আজই গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে।”

“বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে – কিভাবে হলো এই দখল?

মূলত ২০২১ ও ২০২২ সালের দুটি বিধান পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে। রেলওয়ে কোডের ৮১৩(এ) ধারা এবং ভূ-ব্যবস্থাপনা নীতিমালার ৩৮(ক) উপধারা পরিবর্তন করে একসনা লাইসেন্সের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি লাইসেন্স ও অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ তৈরি করা হয়।

এরপরই সারাদেশে, বিশেষ করে হালিশহরের মতো প্রাইম জায়গায় – কৃষি লাইসেন্স নিয়ে দোকান নির্মাণ করে বাণিজ্যিক ভাড়া দেওয়ার মহোৎসব শুরু হয়। আমরা স্থানীয় কয়েকজন দোকানদারের সাথে কথা বলেছি, তারা বলছেন – তারা ট্রাস্টকে নয়, তারা স্থানীয় একজন সমন্বয়কারীর কাছে ভাড়া দেন। সেই টাকা কোথায় যায়? রেলের কোষাগারে যায় না। রেলওয়ের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন – সেমিপাকা বা টিনশেড স্থাপনার শর্তে লাইসেন্স দেওয়া হলেও কোথাও কোথাও স্থায়ী বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।” আপনারা বলেছেন – রেলের জমি প্রথমে রেলের প্রয়োজনে, পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে।

তাহলে –

প্রথম দাবি: আজকের মধ্যেই হালিশহর CSD-র ৫.৩৭ একর জমির বর্তমান ব্যবহার সরেজমিনে তদন্ত করুন। কৃষি লাইসেন্স নিয়ে কতটি দোকান বাণিজ্যিক ভাড়ায় চলছে, তার তালিকা প্রকাশ করুন।

দ্বিতীয় দাবি: এই জমির লিজ বাতিল করে, CSD-র নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সিজিপিওয়াই সম্প্রসারণের জন্য জমিটি রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নিন। জেলা প্রশাসক চাইলে অব্যবহৃত জমি পুনরায় গ্রহণ করতে পারেন – সেই আইন প্রয়োগ করুন।

তৃতীয় দাবি: যারা রেলের জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে কোটি টাকার বাণিজ্য করছে, তাদের লাইসেন্স ফি নয়, বাণিজ্যিক ভাড়া অনুযায়ী জরিমানা ও উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিন।

মাননীয় রেলমন্ত্রী আপনি সৈয়দপুরে বলেছিলেন – দখল হওয়া জায়গা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে। তাহলে শুরুটা হোক আমার হালিশহর থেকে। আমার চট্টগ্রাম থেকে।” এই হালিশহর CSD-র জমি কোনো ট্রাস্টের সম্পত্তি নয়, এটা আমার-আপনার, ১৮ কোটি মানুষের রেলের সম্পত্তি। আজ যদি এই ৫.৩৭ একর রক্ষা না পায়, কাল চট্টগ্রাম স্টেশন, কাল সিজিপিওয়াই, পরশু পুরো রেলওয়েই দখল হয়ে যায়। হালিশহর CSD গোডাউন রেলের জমি রেলেরই থাকবে। আজই ব্যবস্থা নিন।”

বীর চট্টলা টিভির এক্সক্লুসিভ অনুসন্ধান | হালিশহর CSD, চট্টগ্রাম
প্রতিবেদক: এস এম গিয়াস উদ্দিন সম্রাট

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram

১৭ দফা মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বাঁচানোর ডাক সচিব আশরাফুল আমিনের: সড়ক বাড়িয়ে নয়, ডাটা দিয়ে জ্যাম-জলাবদ্ধতা-বর্জ্য জয় – দেশের প্রথম ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল সেন্টার চট্টগ্রামে।