লাগেজ নয়, ইজ্জত চুরি হয় এয়ারপোর্টে! প্রবাসীর ক্ষোভে কাঁপছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

“বিদেশের মাটিতে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা প্লেন ছড়ে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা, দেশের মাটিতে নেমে ৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে নিজের লাগেজের জন্য! ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। জেদ্দা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট। ঢাকায় নামার পর জমজমের পানি আর লাগেজ পেতে দেরি, ট্রলি সংকট – দীর্ঘ ভোগান্তি। সেই ভো গান্তিতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাজিব সামাদারের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ভাইরাল ভিডিওতে শোনা যায় – ‘চাকরি ছাড়েন, নইলে ঘাড় ধরে বের করে দেব।’

ভাষাটা কঠোর, কিন্তু প্রশ্ন হলো – একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সিনিয়র নাগরিক কেন এতটা ক্ষিপ্ত হলেন?”

“আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা ICAO ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন এর Annex-9 অনুযায়ী – একজন যাত্রীর সাথে আচরণ হবে সম্মানজনক, তার লাগেজ ডেলিভারি হবে ৩০ মিনিটের মধ্যে। কিন্তু আমাদের এয়ারপোর্টে কি হয়?

১. একজন প্যাসেঞ্জারের সাথে কিভাবে আচরণ করতে হবে – তার গাইডলাইন আছে CAAB সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অফ বাংলাদেশ এর Passenger Service Manual এ। সেখানে বলা আছে – ‘যাত্রী সেবাই প্রথম’।
২. মেসেঞ্জারে – মানে গ্রাউন্ড স্টাফ, যারা লাগেজ আনে, ট্রলি দেয় – তাদের আচরণবিধি আছে। কিন্তু তারা যাত্রীকে সাহায্য না করে, অনেক সময় দুর্ব্যবহার করে।
৩. সবচেয়ে বড় অভিযোগ – লাগেজ চুরি। দুবাই, সিঙ্গাপুর, দোহায় লাগেজ আসে ২০ মিনিটে, চুরি হয় ০%। আর শাহজালালে লাগেজ আসে ২ ঘণ্টায়, আর লাগেজ কেটে মোবাইল, স্বর্ণ, জমজমের পানিও গায়েব হয়ে যায়।

একজন হাজী, রোদে পুড়ে, পথ পাড়ি দিয়ে জমজমের পানি আনেন – তার লাগেজ পেতে যদি ২ ঘণ্টা দাঁড়াতে হয়, তার ক্ষোভ হওয়াটাই তো যুক্তিযুক্ত!”

 

“আমরা ৩টি এয়ারপোর্টের উদাহরণ দিচ্ছি –

দুবাই এয়ারপোর্টে: লাগেজ আসতে দেরি হলে ৪৫ মিনিটের বেশি হলে যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। যাত্রীকে বসার জন্য লাউঞ্জ, ফ্রি ওয়াইফাই।

সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্টে: বিশ্বের ১ নম্বর এয়ারপোর্ট। সেখানে কোনো যাত্রীকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় না। লাগেজ বেল্টে আসার আগেই ট্রলি হাতে পৌঁছে যায়।

আর আমাদের শাহজালালে: ৩০০ যাত্রীর জন্য ট্রলি আছে ৫০টা। লাগেজ বেল্ট একটা নষ্ট। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করে বিমান বাংলাদেশ – যাদের বিরুদ্ধে শত শত চুরির অভিযোগ। তাহলে প্রশ্ন – দুবাই পারলে, সিঙ্গাপুর পারলে, বাংলাদেশ কেন পারে না? কারণ transparency জবাবদিহিতা নেই।”

“এই নিউজের পর আমরা সরকার, বিরোধী দল, এবং এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ – সবার কাছে ৪ দফা দাবি জানাচ্ছি –

১. বিমানবন্দর যাত্রী অধিকার আইন বাস্তবায়ন: Montreal Convention 1999 অইন অনুযায়ী – লাগেজ দেরি বা চুরি হলে এয়ারলাইন্সকে ১৫০০ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই আইন বাংলাদেশে কার্যকর করুন।

২. লাগেজে সিসিটিভি ও ট্যাগিং: প্রতিটি লাগেজে RFID রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি আই ডেন্টিফিকেশন ট্যাগ লাগান, যাতে যাত্রী মোবাইলেই দেখতে পারে তার মাল কোথায়। আর বেল্ট এরিয়ায় ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি বাধ্যতামূলক করুন। চুরি করলে চাকরিচ্যুত।

৩. যাত্রীর সাথে আচরণে জিরো টলারেন্স: CAAB Civil Aviation authority of Bangladesh এর উচিত – প্রত্যেক কর্মকর্তাকে cst ‘Customer Service Training’ করানো, যেমনটা এমিরেটস করে। যাত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করলে শাস্তি।

৪. প্রবাসীদের জন্য আলাদা করিডর: জমজমের পানি, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য ‘Green Channel’ করুন। তাদেরকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ছেড়ে দিন। মেজর আখতারুজ্জামানের ভাষা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু তার ক্ষোভটা মিথ্যা নয়। এই ক্ষোভ ১ কোটি প্রবাসীর। আমরা চাই – এই নিউজের পরে শাহজালালে আর কোনো লাগেজ চুরি হবে না, আর কোনো প্রবাসীকে ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। যদি হয়, তাহলে এই ভিডিওই হবে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে, বীর চট্টলা টিভির অনুসন্ধানী রিপোর্ট।”

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram