ক্রসফায়ার নয়, কাউন্সেলিং – পুলিশকে জনবান্ধব করার ৫ দফা ফর্মুলা।

“বীর চট্টলা টিভি অনুসন্ধানী টিমের হাতে আসা এক্সক্লুসিভ তথ্য। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এক বিশেষ বৈঠক হয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রতি হারানো আস্থা ফেরাতে এই বৈঠক।

বৈঠকে অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম একটি বিস্ফোরক প্রস্তাব দেন – বিতর্কিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ পদ্ধতি বাদ দিয়ে, আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ তদন্তের দুর্বলতা ও আইনি সীমাবদ্ধতায় অপরাধী দ্রুত জামিন পেয়ে যাচ্ছে।

তাই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ডিটেনশন সহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।”

৫ দফা কৌশল – পুলিশকে কিভাবে জনবান্ধব করবে – তথ্য দিয়ে

“বৈঠকে ৫ দফা কৌশল নেওয়া হয়েছে, যেটা ফলো করলে বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বের সম্মানিত পুলিশ হবে।

১. দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধই পরিচয়: কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে – কোনো আসামির দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে ব্যক্তির অপরাধ ও সংশ্লিষ্টতা দেখতে হবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত – কোনো পদ-পদবী ব্যবহার করে পার পাওয়া যাবে না। অপরাধী শুধু অপরাধী।

২. ক্রসফায়ার নয়, কারেকশন: একজন আসামিকে ক্রসফায়ার না দিয়ে কিভাবে ভালো করা যায়? আন্তর্জাতিক উদাহরণ – জাপানের Koban সিস্টেম – সেখানে পুলিশ বক্সে বসে আসামিকে কাউন্সেলিং করে। ইংল্যান্ডের Peelian Principle বলছে – Police is the public, public is the police. পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে, যমদূত নয়।

৩. বাইরের অর্ডার নয়, ভিতরের চেইন: কোনো পলিটিকাল লিডার যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন করে বলে ‘ওকে ছেড়ে দাও, ওকে ধরো’ – সেই অর্ডার পুলিশ বাহিনীতে কার্যকর হবে না। পুলিশ শুনবে শুধু তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কথা – ওসি শুনবে এসপির, এসপি শুনবে ডিআইজির, ডিআইজি শুনবে আইজিপির। চেইন অফ কমান্ড ভাঙলে পুলিশ ধ্বংস।

৪. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: মাদকবিরোধী অভিযান আরো জোরদার, কিন্তু লাঠি দিয়ে নয় – ডিএনএ, সিসিটিভি, মোবাইল ট্র্যাকিং, বডি ক্যামেরা দিয়ে। বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৫. জনগণের সাথে সংযুক্ততা: পুলিশের সাথে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করেন – জনগণের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমেই হারানো আস্থা ফেরানো সম্ভব।”

আইনি ব্যাখ্যা – কিভাবে কাজ করবে “অনেকে প্রশ্ন করবেন – অপরাধী তো জামিন পেয়ে যায়, তাহলে কি করবে?

উত্তর হলো – বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪।

এই আইনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের ডিটেনশনে নেওয়া যায়। কিন্তু সেটা হতে হবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে, সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে। কোনো গোপন কক্ষে নয়, প্রকাশ্যে আদালতের মাধ্যমে।

বিশ্বের সেরা পুলিশ – লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ – তারা ১৮২৯ সাল থেকে একটা নীতি মানে – পুলিশের শক্তি জনগণের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে।

আমাদের পুলিশ যদি এই ৫ দফা মানে, তাহলে –

কোনো মায়ের বুক খালি হবে না ক্রসফায়ারে, কোনো নিরীহ মানুষ ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ভয়ে থাকবে না, কোনো পুলিশকে আর পলিটিকাল নেতার ফোন ধরতে হবে না।”

“তাই বীর চট্টলা টিভির পক্ষ থেকে আইজিপি আলী হোসেন ফকির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ – আপনারা যে নতুন কৌশলের কথা ভাবছেন, সেটাই সঠিক। পুলিশকে জনবান্ধব করুন, ক্রসফায়ার বন্ধ করুন, দলীয় পদ-পদবী দেখা বন্ধ করুন, বাইরের অর্ডার বন্ধ করুন।

পুলিশকে সম্মানের জায়গায় নিন। মনে রাখবেন – যে দেশে পুলিশকে মানুষ ভয় পায়, সে দেশে আইন নেই। আর যে দেশে পুলিশকে মানুষ সম্মান করে, সে দেশে অপরাধ নেই। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বলছি – আমার বাবা যুদ্ধ করেছিলেন পাকিস্তানি পুলিশের বিরুদ্ধে, আমি চাই আমার দেশের পুলিশ হবে জনতার পুলিশ।

আইজিপি, আপনার এই উদ্যোগকে স্যালুট। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে, জনতার পক্ষে, আমি এস এম গিয়াসউদ্দিন সম্রাট চেয়ারম্যান বীর চট্টলা টিভি।”

Facebook
WhatsApp
Email
Pinterest
Telegram